kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অস্ত্র আইনে মামলা

জি কে শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জি কে শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন সাজা

জি কে শামীম

আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তাঁর সাত সহযোগীকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিন বছর আগে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন।

গতকাল রবিবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় দেন। যাবজ্জীবন পাওয়া অন্য সাতজন হলেন দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার আগে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায় শেষে কঠোর পুলিশি পাহারায় আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জি কে শামীম বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। ’ 

রায়ের পর আদালত চত্বরে জি কে শামীমের স্ত্রী শামীমা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাজা হবে জানতাম, কিন্তু এতটা হবে বুঝিনি। আমাদের আইনজীবীরা আপিল করবেন। ’

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শামীমের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি বলেন, ‘আমার মক্কেলের ওপর অন্যায় করা হয়েছে। যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সে ধারায় সাজা হয়নি। আমাকে তো চার্জ অলটারের বিষয় জানানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে ১৯(ই) ধারায়, কিন্তু সাজা দেওয়া হয়েছে ১৯(এ) ধারায়। এই চার্জ কখন পরিবর্তন হলো, তা আমরা জানি না। ’ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি দেখে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহউদ্দিন হাওলাদার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সেই ধারাতেই রায় হয়েছে। ১৯(ই) ধারায় বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। সেই ধারায়ই সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। এখানে চার্জ পরিবর্তন করা হয়নি, এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। ’

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ কার্যালয়ে সাত দেহরক্ষীসহ শামীম গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোট চারটি মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শামীম কখনো নিজেকে যুবলীগের সমবায়বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দিতেন। আবার কখনো পরিচয় দিতেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে। তিনি চলতেন সামনে-পেছনে সাতজন সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বড় কাজের প্রায় সবই ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠানের কবজায়।

২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলায় শামীম এবং তাঁর সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগের বছর ২৭ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র‌্যাব। ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, শামীম একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী। তাঁর দুষ্কর্মের সহযোগীরা উচ্চ বেতনভোগী। তাঁরা অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে তা বহন ও প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

 



সাতদিনের সেরা