kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১১৪ জনপ্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১১৪ জনপ্রতিনিধি

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন গতকাল রবিবার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সরে দাঁড়ানোয় আরো পাঁচ জেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। এর আগে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৯ জেলায় এবং মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন তিন জেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা একক প্রার্থী হিসেবে বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। সব মিলিয়ে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৭ জেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এ ছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১৯ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬৮ জন একক প্রার্থী হিসেবে বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে এই নির্বাচনে মোট ১১৪ জন ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন।

ফেনী জেলায় এবার সব পদেই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে এই জেলায় ভোটের প্রয়োজন নেই। এর আগের জেলা পরিষদ নির্বাচনেও ফেনীতে একই ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কুমিল্লায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও সদস্য পদে ছয়জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্যানুসারে, গতকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৪২৯ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩২ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৯ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ৩২৮ জন।

দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ওই নির্বাচনে ২১টি জেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া নির্বাচনে ৬৯ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য এবং ১৬৬ জন সাধারণ সদস্যও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা শপথ নেন ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আর সদস্যরা শপথ নেন ওই বছরের ১৮ জানুয়ারি।

এবার যে ২৭টি জেলায় বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হচ্ছেন সেই জেলাগুলো হলো : কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, বরগুনা, বাগেরহাট, ভোলা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, ঢাকা, পাবনা, পিরোজপুর, বরিশাল ও জামালপুর। এই ২৭ জেলায়ই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান হচ্ছেন।

গতকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ঢাকা, পাবনা, পিরোজপুর, বরিশাল ও জামালপুর জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরে দাঁড়ানোতে এই পাঁচ জেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

এবারের এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১৬২ জন, সাধারণ সদস্য পদে এক হাজার ৯৮৩ জন, আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৭১৫ জন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে এদের অনেকে বাদ পড়েন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চেয়ারম্যান পদে ৯০ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৬২০ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে এক হাজার ৫০৫ জন।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে কয়েকটি জেলায় চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ছিল। এ অভিযোগ সম্পর্কে গতকাল নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ না এলে কিভাবে ব্যবস্থা নেব। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে অভিযোগ করতে হবে। কিংবা গণমাধ্যমে এলেও আমরা ব্যবস্থা নেব। ’ একজন প্রার্থীর এসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘পেপার কাটিং পেয়েছি। এই যে দেখলাম। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব। ’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ, এখন আর কী ব্যবস্থা নেবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা