kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘আমাদের পূজার আনন্দ থাকল না’

লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমাদের পূজার আনন্দ থাকল না’

‘আমার মা সুমিত্রা রানী বাবাসহ বোদেশ্বরী পীঠ মন্দিরে মহালয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে আমার মা মারা যান। বাবা সাঁতরে পারে উঠেছেন। এত মৃত্যু দেখে আমি মা হারানোর পরও কাঁদতে ভুলে গেছি।

বিজ্ঞাপন

আমাদের পূজার আনন্দ আর থাকল না। ’ নৌকাডুবিতে মায়ের মৃত্যুর পর গতকাল রবিবার রাতে এভাবেই বলছিলেন পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকার রঞ্জিত কুমার রায়।

করতোয়াপারের বোদেশ্বরী মন্দিরটি যেমন প্রাচীন, তেমনি প্রাচীন এর দুর্গোৎসব আয়োজনও। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে অবস্থিত এ মন্দিরে দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে এবারও রয়েছে বড় আয়োজন। সেই আয়োজনে যোগ দিতে যাচ্ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওই দল।

নৌকাডুবির পর সাঁতরে পারে ওঠা যাত্রী ঈশিতা বলেন, ‘শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঘাট থেকে ছাড়ে নৌকা। কিছুদূর যেতেই বন্ধ হয়ে যায় ইঞ্জিন। এই সময়েই দুলতে শুরু করে নৌকাটি। মাঝি আবার ইঞ্জিন চালু করে রওনা করে। দু-এক মিনিট পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় ইঞ্জিন। নৌকায় থাকা সবাই মাঝিকে ঘাটে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিলে নৌকা ঘোরান তিনি। ঘাটে ফেরার পথেই উল্টে যায় নৌকাটি। ’

ঈশিতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরুতে বুঝতে পারিনি যে এমন হবে। নৌকায় বেশির ভাগই নারী ও শিশু ছিলাম। নৌকা দোলায় সবাই ভগবানকে ডাকা শুরু করি। নিমিষেই সব শেষ হয়ে যায়। নৌকা উল্টে গেলে কেউ কাউকে দেখার সুযোগ পাইনি। শিশুগুলোর মুখ এখনো চোখের সামনে ভাসছে। ’

গত রাতে নদীতীরে অপেক্ষা করা আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার দুজন স্বজনকে এখনো পাওয়া যায়নি। জানি না তারা বেঁচে আছে, না মারা গেছে। উদ্ধারের আশায় বসে আছি। ’

নৌকাটি ডুবে যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এতে দেখা যায়, নৌকাটিতে এত যাত্রী ছিল যে পানির ওপরে নৌকার কাঠামোই বোঝা যাচ্ছিল না দূর থেকে। এর মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মাঝি, সাবধানতা অবলম্বন করেন, সাবধানতা অবলম্বন করেন। ’ চেষ্টাও করতে দেখা যায় মাঝিকে, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মাঝনদীর কাছাকাছি টলতে টলতে ডুবে যায় নৌকাটি। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আর্তচিৎকার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। আশপাশে সেই চিৎকার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।

ঘাট এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, ‘নৌকার মাঝিদের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারের জন্য আমরা নিষেধ করছিলাম, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। মানুষও কথা শুনছিল না। ’

 



সাতদিনের সেরা