kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিশেষজ্ঞ মত

নগরবাসীকেও মশা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হতে হবে

ড. কবিরুল বাশার

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরবাসীকেও মশা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হতে হবে

ড. কবিরুল বাশার

বিশ্বব্যাপী মশা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মশা ও মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। মানুষের বিভিন্ন ধরনের অসুখের মধ্যে মশাবাহিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, জিকা ও জাপানিজ এনসেফালাইটিস উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের শুরু থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি হাসপাতালে সব সময় রোগী ভর্তির সংখ্যা বেশি। এই হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে—মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হলি  ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল।

বিজ্ঞাপন

এই হাসপাতালগুলোয় ক্রমাগত ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা নির্দেশ করে, বিশেষ কিছু এলাকা ডেঙ্গুর হটস্পট। আর ওই এলাকাগুলোয় আমরা মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। পরে ওই হটস্পটগুলো থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে পাশের এলাকায়।

কোনো এলাকায় যখন হঠাৎ কোনো রোগ বেড়ে যায় তখন সেই রোগের কারণ অনুসন্ধান করতে হয়। রোগ বিস্তারের কারণগুলো যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ করাটা সহজ। মশার প্রতিটি প্রজাতির প্রজনন, আচরণ ও রোগ বিস্তার ক্ষমতা ভিন্ন। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রজাতি ও আচরণভেদে আলাদা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোনো এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হয়। ডেঙ্গু রোগীর বাড়ি চিহ্নিত করে সেই বাড়ির চারপাশে ফগিং মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা মারতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশাটি অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে পারবে না। ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোর চারপাশে নিয়মিত ফগিং মেশিন দিয়ে এডিস মশা মারতে হবে। হাসপাতাল কিংবা বাড়িতে ডেঙ্গু রোগীকে সব সময় মশারির ভেতরে রাখা জরুরি।

আগামী দুই মাস অবশ্যই ডেঙ্গুর হটস্পট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রমও চালাতে হবে। এ কাজে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নগরবাসীকেও সম্পৃক্ত হতে হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি ব্লকে ভাগ করে মশা নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। প্রতিটি ব্লকে নিয়োগ দিতে হবে কিছু জনবল। যেমন, একজন এন্টোমোলজি টেকনিশিয়ান, একজন স্প্রেম্যান, একজন ওয়ার্ড সুপারভাইজার, একজন ক্লিনার। এরা নিয়মিত কাজ করবেন। কাজগুলো বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদ দিয়ে সময় উপযোগী গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। এই গাইডলাইনে থাকবে মশা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক সরঞ্জামাদি ও আধুনিক কীটনাশকের নির্দেশিকা।

আবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে মশা ও অন্য ভাইরাসের বাহক নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র সেন্টার তৈরি করতে পারে। যেটির নাম হতে পারে ‘বাংলাদেশ ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ সেন্টার’। এই সেন্টারের মাধ্যমে দেশজুড়ে মশা ও অন্য ভাইরাসের বাহক নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু বিষয় সংযোজন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে—আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশকের পর্যাপ্ততা, কীটনাশক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।

সিটি করপোরেশনগুলোর অর্গানোগ্রামে কীটতত্ত্ববিদের পদ রয়েছে। অতিসত্বর এসব পদে অভিজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রতি জেলায়ও কীটতত্ত্ববিদের পদ রয়েছে। যেখানে যেখানে পদগুলো খালি, সেখানে নিয়োগের ব্যবস্থা করে মশা নিয়ন্ত্রণকাজ জোরদার করা প্রয়োজন।

লেখক : অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা