kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবে কোটি মানুষ

সাইদ শাহীন   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবে কোটি মানুষ

আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ মানুষ ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) এই পূর্বাভাস দিয়েছে। ক্ষুধার ঝুঁকি ছাড়াও সার্বিকভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ঝুঁকির তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও কৃষি পণ্যের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, বিশ্ব পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকার কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিসহ নীতি সামঞ্জস্যের কারণে কৃষির উৎপাদনশীলতা কমবে।

বিজ্ঞাপন

এসব কারণে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গ্লোবাল ফুড পলিসি রিপোর্ট-২০২২ : ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ফুড সিস্টেম শীর্ষক প্রতিবেদনটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন, বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ২০৩০ ও ২০৫০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য পরিস্থিতি কেমন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সারা বিশ্বে ২০৩০ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫২ কোটি ৮০ লাখে। এই সময়ে বাংলাদেশে ক্ষুধার্ত মানুষ হবে এক কোটি ১৩ লাখ। তবে এই সংখ্যা ২০৫০ সালে নেমে দাঁড়াবে ৬৯ লাখে।

জানা গেছে, ২০৩০ সালে প্রতিদিন জনপ্রতি ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হবে দুই হাজার ৭১৪ কিলোক্যালরি। ২০৫০ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে দুই হাজার ৯১১ কিলোক্যালরিতে। যদিও এই পরিমাণ বিশ্ব গড়ের চেয়ে কম থাকবে বাংলাদেশে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের মানুষের ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুসারে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ২০৩০ সালে দেশের মানুষের ক্যালরি গ্রহণ ১৭ শতাংশ কমবে। ভিত্তি বছর ২০১০ সালে যা ছিল দুই হাজার ৪২৬ কিলোক্যালরি।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা বিশ্বেই ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকা মানুষ রয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও অন্যতম বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ও বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে বিশেষ উদ্যোগে মানুষের সহযোগিতা করে থাকে বিধায় মানুষ এখন আর না খেয়ে নেই। কৃষি ও খাদ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারের কার্যকর উদ্যোগের কারণেই সেটি সম্ভব হয়েছে। ’

জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নতুন প্রযুক্তি ও জাত উদ্ভাবন হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ও খাদ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের কোনো মানুষ অনাহারে থাকবে না। দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘাতসহিষ্ণু, বিশেষ করে খরা ও লবণ এবং জলমগ্নতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগুলো কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছানো হচ্ছে। ’

 



সাতদিনের সেরা