kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নিমেষেই পাঁচজন শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



নিমেষেই পাঁচজন শেষ

রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার একটি চলন্ত প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছে। গতকাল বিকেলে এ দুর্ঘটনার পর ক্রেন দিয়ে গার্ডারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবি : লুৎফর রহমান

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রাইভেট কারে বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় আড়ংয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহত হন দুজন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বিজ্ঞাপন

হতাহত সবাই একই পরিবারের সদস্য।  

ভারী গার্ডারের নিচে প্রাইভেট কারটি চাপা পড়ায় শুরুতে মরদেহ বের করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এক্সকাভেটর দিয়ে গাড়িটির ওপর থেকে গার্ডারটি সরিয়ে প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত পাঁচজন হলো মো. রুবেল (৬০), ফাহিমা আক্তার (৪০), ঝরনা আক্তার (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)।

পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আহত দুজন হলেন মো. হৃদয় (২৬) এবং তাঁর স্ত্রী রিয়া মণি (২১)। তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় একটি বউভাতের অনুষ্ঠানে থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় হতাহত ব্যক্তিরা। দুর্ঘটনার পরপরই দুজনকে আহত অবস্থায় প্রাইভেট কার থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখন গার্ডারের নিচে চাপা পড়া গাড়িটির ভেতরে পাঁচজন ছিল। তাদের দু-তিনজনকে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল।

লাশ উদ্ধারের পর গত রাত পৌনে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। তাদের সবার লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রাইভেট কারের ওপর থেকে গার্ডার সরাতে এত দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাইফুজ্জামান বলেন, ‘এত বড় গার্ডার সরানোর সক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের নেই। ঠিকাদার  প্রতিষ্ঠান যারা এখানে কাজটি করছে, তাদের লোকজন আসার পর গার্ডারটি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তাদের আসতে সময় লাগায় দেরি হয়েছে। ’

দুর্ঘটনার পর উত্সুক জনতা সেখানে ভিড় করে। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বেগ পেতে হয়। সাইফুজ্জামান এসব কথা গণমাধ্যমের কর্মীদের জানানোর সময় স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করে। তবে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আশপাশে থাকা স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মোর্শেদ আলম বলেন, উত্তরা এলাকায় বিআরটির উড়াল সড়কটি বর্তমান সড়কের মাঝ বরাবর। প্রাইভেট কারটি যাচ্ছিল রাস্তার এক পাশ দিয়ে। দুর্ঘটনার আগে বিআরটির একটি গার্ডার তোলার সময় এক পাশে কাত হয়ে ওই প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, তারা একটি বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছে, তারা আশুলিয়ায় যাচ্ছিল।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৩-এর উপসহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান বলেন, গার্ডারের ওজন ১৫০ টন হওয়ায় উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু করা যায়নি। পরে এক্সকাভেটর আনা হয়। এক্সকাভেটর আনতে দেরি হওয়ায় উদ্ধারকাজে দেরি হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে গার্ডার একটু উঁচু করে প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মাদ মহসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ফ্লাইওভারের গার্ডারের চাপায় প্রাইভেট কারে থাকা শিশুসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করে।

দুর্ঘটনার পর উত্তরা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। প্রাইভেট কারটি সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানায় পুলিশ।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্রেনটি ভারসাম্য হারিয়ে কাত হয়ে পড়ে বলে ধারণা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে ক্রেনের অপারেটর পালিয়ে যাওয়ায় ওই সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা সুস্পষ্ট বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাস রেপিড ট্রানজিট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূলত এটি একটি মেকানিক্যাল ফল্ট (যান্ত্রিক ত্রুটি)। গার্ডারটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেন একদিকে কাত হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কাজ করার সময় ক্রেন ফেইল করেছে। ’

দুর্ঘটনা কিভাবে ঘটল এবং কে দায়ী—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি না জেনে কিছু বলতে পারব না। ক্রেন কাত হয়ে গেছে এটা যান্ত্রিক সমস্যা। এটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত না জেনে কিছু বলতে পারব না। ’

এ বিষয়ে সওজের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান জানান, ‘ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় সব লেন বন্ধ করে একটি লেন গাড়ি চলাচলের জন্য রাখা হয়। কিন্তু সেখানে গাড়ির চাপ বেশি থাকলে যে লেনে গাড়ি চলার কথা না, সেখানেও গাড়ি চলে যায়। দুর্ঘটনার সময় ক্রেনটি ঘুরে ঠিক উল্টো দিকে প্রাইভেট কারের ওপর পড়েছে। আমার ধারণা, স্লিপ করে ঘুরে গিয়ে ব্যালান্স হারিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে গেছে। গাড়ির ওপর পড়েছে। ’

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, যে ক্রেন দিয়ে গার্ডার তোলা হচ্ছিল, সেটি কোবেলকো-৭০৮০ মডেলের। ওই ক্রেনটি ৮০ টন পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে।

বিআরটি প্রকল্পটি চীনের জিয়াংশু প্রভিনশিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড ও গেজুবা গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড বাস্তবায়ন করছে। ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শেষ করার কথা ২০১৭ সালে। তবে নানা জটিলতায় বারবার পিছিয়েছে কাজ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৬৮ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না

এ দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ঠিকাদারি কম্পানির অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ক্রেন দিয়ে গার্ডার তোলার সময় সেটি ছিটকে গাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়া কাজ করতে গিয়ে এত প্রাণহানি ঘটেছে।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে। জনবহুল সড়কে কর্মব্যস্ত সময়ে কেন এই কাজ করা হচ্ছিল? এত ভারী একটি বস্তু তোলার সময় নিচ দিয়ে কিভাবে গাড়ি গেল? কেন ক্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারাল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই এলাকা অনেক ব্যস্ত একটা করিডর। এই করিডরে কাজ যারা কাজ করবে, তাদের ওপর ২৪ ঘণ্টা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নজরদারি ও তদারকি থাকতে হবে। কোথাও যদি কনস্ট্রাকশন প্র্যাকটিসের ব্যত্যয় ঘটে, তাকে কিন্তু জবাব দিতে হবে। এই জবাব দিতে হয় না বলেই আমরা দেখছি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে হয় না। তাদের মধ্যে অবহেলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। ’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তার চর্চাগুলো অনুসরণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার কোনো কারণই নেই। এখানে প্রশাসনিক ব্যর্থতাও ছিল মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ঠিকাদার সঠিকভাবে সব সাবধানতা মেনে কাজ করছে কি না, এটি তদারকির দায়িত্ব প্রশাসনের। সেটি করা হয় না বলেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবহেলা করে থাকে।

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘যদি বেষ্টনী না থাকে, তাহলে এটা স্পষ্ট অবহেলা। অতীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঘটেছে। সেখান থেকেও আমাদের একটা শিক্ষা নেওয়ার দরকার ছিল। ’

এর আগে গত বছরের মার্চে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় এই প্রকল্পের একটি গার্ডার পড়ে গিয়ে ছয় শ্রমিক আহত হন। ১৫ জুলাই গাজীপুরে একই প্রকল্পের ‘লঞ্চিং গার্ডার’ চাপায় এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক ও একজন পথচারী আহত হন। ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় ঢাকার তেজগাঁও ও মালিবাগ মোড় এবং চট্টগ্রামেও প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে ২৯ জনের প্রাণহানি হয়। এসব ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। তার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজকের এ দুর্ঘটনা ঘটল।

ফের একই ধরনের ঘটনা কেন ঘটল ও নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে একসময় প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মো. লিয়াকত আলী বলেন, এমন ব্যস্ত সড়কে বাইপাস করা কঠিন। তা ছাড়া সড়ক আটকেও কাজ করা যায় না। এটি একটি দুর্ঘটনা। কোনো দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা দরকার।

প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল উত্তরায় গার্ডারের চাপায় প্রাইভেট কারের পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

ঘটনার তদন্তে কমিটি

বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে হতাহতের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লাহ নূরী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের কথা সাংবাদিকদের জানান। বিআরটি প্রকল্পের এই অংশ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অন্য অংশ বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ।

সচিব আমিনুল্লাহ নূরী বলেন, ‘এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ’

ক্রেনের চালককে খুঁজছে পুলিশ

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছি। আহত দুজনকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্রেনের চালককে খুঁজছি। তাঁকে আটকের পরই সব প্রশ্নের জট খুলবে। ’

এ ঘটনায় রাতেই মামলা করা হবে জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, যিনি ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন তিনি দুর্ঘটনার পর থেকে পলাতক। তিনিই ক্রেনটির মূল চালক ছিলেন, নাকি অন্য কেউ চালাচ্ছিলেন, তা চালককে ধরা গেলেই জানা যাবে।



সাতদিনের সেরা