kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চার মন্ত্রীর সঙ্গে বাশেলেতের বৈঠক

মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিল সরকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিল সরকার

বাংলাদেশে ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ (গুম) বলে কিছু নেই—সরকারের এই অবস্থান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেতের কাছে তুলে ধরেছেন মন্ত্রীরা। মিশেল বাশেলেত গতকাল রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি চার দিনের সফরে গতকাল ঢাকা এসেছেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের (জাতিসংঘ দল) বলেছি, গুম আমাদের দেশে নেই। তবে কিছু কিছু লোক বলেছে, ৭৬ জন লোক নাকি গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা বলছে, সরকার এদের নিখোঁজ করেছে। ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৭৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে আবার পাওয়া গেছে। আর বাকিগুলো আমরা এখনো ঠিক জানি না। নিখোঁজ হওয়াদের পরিবার কোনো গুরুত্ব দেয় না। ’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি বৈঠকে জাতিসংঘের হাইকমিশনার তোলেননি। তিনি নিজেই বলেছেন, অনেকে বলছে যে সরকার অনেক মানুষ হত্যা করছে। সরকার তথ্য পেলে অবশ্যই তদন্ত করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশে ২০০২-২০০৩ সালে ‘হার্ট অ্যাটাকের’ নামে অনেক বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে। ইদানীং হয়েছে এমনটি তিনি শোনেননি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গণমাধ্যম খুবই শক্তিশালী। এই যে প্রাইভেট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, আমরা একটা কথা বললে একেবারে ধরে ফেলে তারা। আমরা তো কখনো তাদের বলিনি যে এটা করবেন না। ’ নাগরিক সমাজ নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমাদের দেশে শত শত এনজিও। আমাদের দেশে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অনেক। ’

রোহিঙ্গা বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা খুব উদ্বিগ্ন।

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বার্গম্যান সাহেব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় পয়সা খেয়ে কাজ করতেন বলে শুনেছি। ’

মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সফরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের খোলা চিঠি ও বিবৃতি প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, “ওরা খুব অসন্তুষ্ট আছে। দেশ উন্নতি করছে এবং তারা কোথাও নেই। তারা এক ধরনের মানসিক যাতনায় আছে তাই এসব করছে। কেউ কেউ তাদের পয়সা দিচ্ছে, তারা তো ‘পেইড’ লোক। ”

এদিকে বৈঠক শেষে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকারকে সাংঘাতিক মূল্য দেন। তার কারণ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একজন ‘ভিকটিম’ তিনি। সে জন্য শেখ হাসিনার সরকার মানবাধিকারকে সব সময় সমুন্নত রাখবে এবং আইন দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে। আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি দেশের সাংবাদিকদের যে কথাগুলো জানিয়েছিলেন, সে কথাগুলো মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকেও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আলোচনার জন্য আগেই আমাদের কিছু লিখিত প্রশ্ন দিয়েছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসা ছিল, অনেকে ‘মিসিং’ হয়ে যায়। অনেক নৃশংসতা বাংলাদেশে হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কী করেছি? এ ছাড়া দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়েও তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন। ”

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি নারী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গসহ সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

মিশেল বাশেলেত আজ সোমবার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে তিনি কক্সবাজার যাবেন। ঢাকায় ফিরে তিনি আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন।

 

 



সাতদিনের সেরা