kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৫৬/৯, জিম্বাবুয়ে : ৩২.২ ওভারে ১৫১, ফল : বাংলাদেশ ১০৫ রানে জয়ী, সিরিজ : জিম্বাবুয়ে ২-১-এ জয়ী

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি

আফিফ হোসেন : ৮৫* রান

সিকান্দার রাজারা এবার যেন অ্যান্ডি ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার যুগের জিম্বাবুয়েকেই ফিরিয়ে এনেছিলেন। ২০০১ সালে শেষবার ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার সময় ফ্লাওয়ার ব্রাদার্সরা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকাই। এরপর ক্রিকেটে ক্রমেই পেছাতে থাকা জিম্বাবুয়ে ২০১৩ সালের পর থেকে ‘সহজ শিকার’ই হয়ে উঠেছিল। এই সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কাছে টানা ১৯ ওয়ানডেতে হারা দল এবার ঘুরে দাঁড়ায় রাজার টানা দুই সেঞ্চুরিতে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজও পকেটে পুরে ফেলা দল গতকাল হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নেমেছিল সফরকারীদের ২১ বছর পর হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবানোর লক্ষ্য নিয়েই। তবে নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশ অবশেষে বাধা হতে পারল স্বাগতিকদের সামনে। ১০৫ রানের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি নিয়েই শেষ করল জিম্বাবুয়ে সফরও।

অথচ প্রথম দুই ওয়ানডের চেয়েও তারা রান করেছিল কম। ৩০৩ ও ২৯০ রান করেও যেখানে পার পাওয়া যায়নি, সেখানে এনামুল হক বিজয় (৭১ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬) ও ম্যাচসেরা আফিফ হোসেনের (৮১ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৮৫) ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৫৬ রান তুলেও নিশ্চিন্তে থাকার উপায় ছিল না। প্রথম দুই ম্যাচের মতো জিম্বাবুয়েকে শুরুতেই চেপে ধরার পরও নয়। এবারও যে ৭ রানে ২ উইকেট তুলে নেওয়ার পর রাজা ছিলেন। ছিলেন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইনোসেন্ট কাইয়াও। আগের ম্যাচে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করার পথে পাওয়া হাতের চোটে যদিও রেজিস চাকাভার হোয়াইটওয়াশের মিশনে নামা হয়নি। তাঁর জায়গায় এই ম্যাচে স্বাগতিকদের নেতৃত্ব দেওয়া রাজার সামনে আবারও তৈরি হয়েছিল বিপর্যয়ের মুখ থেকে দলকে টেনে তোলার পথ। সুবাদে ভয় ছিল বাংলাদেশেরও; কিন্তু এক নিমেষেই সেই ভয় উধাও হয়ে যায় অভিষিক্ত এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই এই পেসার এমন আঘাত হানেন যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। কিছুটা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে প্রথমে ওয়েসলি মাধভেরেকে পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানান। পরের বলেই ওয়াইড ইয়র্কার, তাতে ব্যাট নামিয়ে কুলাননি রাজা। ব্যাটে লেগে বোল্ড হন আগের দুই ম্যাচেই হার না মানা সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের সিরিজ জেতানো রাজা। এবার মারেন ‘গোল্ডেন ডাক’। ১৮ রানেই ৪ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের শেষ আশার সমাপ্তিও একটু পরই, ১০ ওভারের মধ্যেই তাইজুল ইসলামের বলে কাইয়াও (১০) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়তেই। ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আর ফেরার পথ ছিল না স্বাগতিকদের।

বরং ৮৩ রানে নবম উইকেট হারিয়ে এবার এক শর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কাও জেগেছিল। যদিও রিচার্ড নাগারাভা (২৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩৪) ও ভিক্টর নিয়ুচির ৩১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৬) রেকর্ড পার্টনারশিপে আরো বড় হার এড়ায় জিম্বাবুয়ে। দশম উইকেটে তাঁদের যোগ করা ৬৮ রান ওয়ানডেতে তাঁদের সর্বোচ্চ। নিয়ুচিকে বোল্ড করা মুস্তাফিজুর রহমান এক ম্যাচ পর একাদশে ফিরেই ১৭ রানে তুলে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের শেষ ৪ উইকেট। ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে অবদান রেখেছেন তাইজুলও। তবে জয়ের পথে পা বাড়ানো ধাক্কাটা দিয়েছিলেন ৩৮ রানে ২ উইকেট নেওয়া এবাদতই।

 



সাতদিনের সেরা