kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

কোম্পানীগঞ্জ

এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে নৌকায়

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে নৌকায়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসাকলস ইউনিয়নের পাশেই পিয়াইন নদী। এই নদীর শেষে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়। পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জের যে এলাকাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো  শিলিংভাঙা ও রংপুর বস্তি। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ইসাকলস ইউনিয়ন পরিষদও।

বিজ্ঞাপন

পরিষদের পাশেই তিনটি বারকি নৌকা (বালু পরিবহনের নৌকা)। এই নৌকায় পাঁচ দিন ধরে বাস করছে এই এলাকার আট পরিবার। সব মিলিয়ে তাদের সদস্যসংখ্যা ৪০। সবাই পানিবন্দি।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে বন্যার পানিতে অলস সময় পার করছে এসব নৌকা। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা যায় অন্য রকম পরিবেশ। অস্থায়ী চুলায় রান্না হচ্ছে খিচুড়ি। ত্রাণ হিসেবে পাওয়া চাল ও ডাল দিয়ে এই রান্নার আয়োজন। নৌকায় অস্থায়ী ছাউনির জানালা দিয়ে তখন উঁকি দিয়ে বাইরে দেখছিল তিন বছরের শিশু মিম। পরিবারের সবাই তাকে চোখে চোখে রাখছে।

এই নৌকায় ছয় দিন ধরে পরিবার নিয়ে বাস করছেন চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৫৫)। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার পরিবারসহ এই তিন নৌকায় বাস করছে আটটি পরিবার। সবার বাড়িতে পানি উঠেছে। বুক সমান পানি। আমরা প্রথমে আশ্রয়কেন্দ্রে (ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে) যেতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু রাস্তা পাইনি। পরে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব এখানে থাকতে দিয়েছেন। ’

গাদাগাদি করে নৌকার অস্থায়ী ঘরের মতো একটি কক্ষে থাকতে হচ্ছে কমপক্ষে ১০ জনকে। বৃষ্টি না হলে পুরুষরা থাকছেন নৌকার খোলা অংশে। এই নৌকায় আছেন ওলিউল্লাহ (২২)। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘর থেকে তেমন কিছু নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। আমার পরিবারে আমার মা-বাবা আছেন। তাঁরা বয়স্ক মানুষ, তাঁদের অনেক কষ্ট। খাওয়ার কষ্ট, থাকার কষ্ট। ’

এই নৌকার পাশের নৌকায় ছয় দিন ধরে থাকছেন আনাছ আহমেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ত্রাণ পেয়েছি কিছু চিড়া-মুড়ি আর বিস্কুট। তবে তা পরিমাণে খুব বেশি না। আমরা ত্রাণ চাই সরকারের কাছে। জানি না কত দিন এভাবে থাকতে হবে!’

এই নৌকাজীবনে সবচেয়ে কষ্টে আছে নারী ও শিশুরা। তাদের একজন আছিয়া খাতুন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছি। কোনো উপায় ছিল না। জানি না ঘরের কী অবস্থা। বাচ্চাদের খাওয়াতে পারছি না ঠিকমতো। পানির কষ্ট। বাথরুম নাই। খুব কষ্টে আছি। ’ আছিয়া খাতুনের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাঁর ননদ তহমিনা বেগম বলেন, ‘হাজারটা কষ্ট নিয়া এই ছয় দিন পার করলাম। জানি না আর কত দিন থাকতে হবে এখানে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা