kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নৌকায় টানা চার রাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নৌকায় টানা চার রাত

নৌকার মধ্যে অসহায় অবস্থায় টানা চার রাত আছে সিলেটের টুকের বাজার এলাকার এই বাসিন্দারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘরে পানি। বিছানা পর্যন্ত ডুবে গেছে। তাই মাঝারি আকারের এক নৌকার মধ্যে টানা চার রাত ধরে আছেন সিলেটের টুকের বাজার এলাকার ছয় তরুণ। বাড়িতে চুরি হওয়ার ভয় আছে বলে এলাকা ছাড়ছেন না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

আবার খাবার ও পানির সংকটেও আছেন তাঁরাসহ এলাকার অনেকে।

এই নৌকাতে আছেন মিজান আহমেদ নামের এক তরুণ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জীবন তো বাঁচাতে হবে! ঘর-দুয়ারের সব জায়গায় পানি। মহিলারা তো আর বাড়ির বাইরে থাকতে পারেন না। পানির মধ্যে কষ্ট করে যেভাবে থাকা সম্ভব, মহিলারা সেভাবে আছেন। আর আমরা বাড়ির পাশে নৌকাটা ভিড়িয়ে এই নৌকাতেই থাকছি। ’

ত্রাণের প্রসঙ্গে তুলতেই মিজান বলেন, ‘আমাদের কে ত্রাণ দেবে, আমরা আমাদের মতো করেই বেঁচে আছি। কালকে এক ভাই এসে কিছু খিচুড়ি দিয়ে গিয়েছিল, সেটি খেয়ে এখন পর্যন্ত আছি। ’

সুরমা নদীর ধারে টুকের বাজার এলাকাটিতে প্রায় ২০০ পরিবারের বাস। পরিবারগুলো খাবারসংকটে দিন কাটাচ্ছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মূল শহরের সঙ্গে এই গ্রামের যোগাযোগ একদম বিচ্ছিন্ন। মূল সড়কে প্রায় কোমরপানি। নৌকায় আশ্রয় নিয়ে দিনের অনেকটা সময় ও রাত কাটাচ্ছেন তরুণরা। তাঁদের একজন বিল্লাল হোসেন। রাতে তিনি এই নৌকায় থাকেন। রাতে বাড়িতে থাকার জায়গার সংকট হয় বলে এই ব্যবস্থা করে নিতে হয়েছে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার কিছু করার নেই। পরিবারে মানুষের সঙ্গে সারা দিন থাকি আর রাত হলেই এখানে এসে থাকি। ’

মিজান, বিল্লালের মতো মেহেদি হাসান, আনোয়ার হোসেন, ফয়জুল্লাহ আমিন ও মো. মামুন এই নৌকায় থাকছেন। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ চান তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, দু-একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া তাঁদের পাশে ত্রাণ নিয়ে কেউ দাঁড়ায়নি।

 



সাতদিনের সেরা