kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

দুদককে হাইকোর্ট

অর্থপাচার ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থপাচার ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করুন

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, আলেশা মার্ট, দারাজ, কিউকম, আলাদীনের প্রদীপ ও দালাল প্লাসের মতো ই-কমার্স মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে তা নিরূপণ করতে এবং হয়ে থাকলে এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা চিহ্নিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে কার বা কাদের অবহেলায় ই-কমার্স মার্কেট প্লেসের গ্রাহকরা লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার এসংক্রান্ত তিনটি রিটের ওপর শুনানির পর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব, শিশির মনির ও আনোয়ারুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ই-কমার্স মার্কেট প্লেসের যেসব ক্রেতা গুরুতর লোকসান ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেসব ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে চিহ্নিত করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ই-কমার্স মার্কেট প্লেস থেকে কী পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে বা আদৌ পাচার হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ নিরূপণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সেই সঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফরমের ভোক্তাদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফরমের কার্যাবলি তদারকি করতে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে রুলে।

চার সপ্তাহের মধ্যে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক, বিএফআইইউর প্রধানসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তিন রিট আবেদন

অনলাইন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি অনুযায়ী একটি স্বাধীন ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এই রিটের দুই দিন পর অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর দুই ই-কমার্স গ্রাহকের পক্ষে আরেকটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব। ই-কমার্স মার্কেট প্লেসে লাখ লাখ গ্রাহকের লোকসান ও গুরুতর আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

এ ছাড়া ই-কমার্স গ্রাহকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির জন্য অর্থনীতিবিদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী ও অন্য অংশীজনদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি রিট আবেদন করা হয়।

ই-কমার্স খাতের ৩৩ ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষে আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনকারী এসব গ্রাহক বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফরমে ১৬ কোটি টাকা পরিশোধের পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত কিছুই পাননি। এই কারণে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনটিতে।

ইভ্যালিসহ ই-কমার্স খাতের আরো অনেক কম্পানির বিরুদ্ধে এ ধরনের ১৭ হাজার অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে জমা পড়ে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে এ তিনটি রিট আবেদন করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা