kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ভারতে টিকটক হৃদয়সহ সাতজনের যাবজ্জীবন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে টিকটক হৃদয়সহ সাতজনের যাবজ্জীবন

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ১১ জনকে দোষি সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে টিকটক হৃদয়সহ সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডাদেশ পাওয়াদের মধ্যে তিনজন নারী।

বেঙ্গালুরুর একটি আদালত গত শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁদ মিয়া ওরফে সবুজ, রিফাকদুল ইসলাম ওরফে হৃদয় বাবু ওরফে টিকটক হৃদয়, আলামিন হোসেন ওরফে রাফসান মণ্ডল, রাকিবুল ইসলাম ওরফে সাগর, বাবু শেখ, মো. ডালিম ও আজিম হোসেন।

ধর্ষণ ও নির্যাতনে সহায়তা করার জন্য তানিয়া খানকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদ জামালকে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান ও ওই চক্রকে সহায়তা দেওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর নুসরাত ও কাজল নামের দুই নারীর প্রত্যেককে ৯ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই দুই নারী আসামিদের অপরাধ জানার পরও তা প্রকাশ করেননি।

গত বছর বাংলাদেশি তরুণীকে (২২) ওই নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগের ২৮ দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দেয়। সব মিলিয়ে ৪৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনকে সাজা দিলেন আদালত। পুলিশ তদন্তে জেনেছে,  অভিযুক্তরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বাস করছিলেন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই বাংলাদেশি তরুণী রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার হতদরিদ্র। ঘটনার পাঁচ বছর আগে কুমিল্লার এক সৌদিপ্রবাসীর সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু এক পর্যায়ে তাঁর স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি অভাবে পড়েন। তখন তিনি সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করেন। এই সময়ে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় টিকটক হৃদয়ের। ওই তরুণীকে বিয়ের কথা বলে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁকে ভারতে নিয়ে যান টিকটক হৃদয়।

ওই তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই বেঙ্গালুরু পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সে সময় বেঙ্গালুরু পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা সবাই সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য। নির্যাতনের শিকার তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যেই ভারতে আনা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মানব পাচার চক্রটি অল্প বয়সী মেয়েদের চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যেত। পরে তাদের যৌন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করত। নির্যাতনের শিকার তরুণীও এ রকমই একজন। কিন্তু কথা না শোনায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন আসামিরা।   

গত বছরের ২৭ মে বাংলাদেশের রাজধানীর হাতিরঝিল থানাতে মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে টিকটক হৃদয়সহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলাও করেন ওই তরুণীর বাবা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতের আদালতে সাজা হওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওই সাজা ভারতে ভোগ করতে হবে আসামিদের। আমাদের এখানে হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা