kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

আসামির দায়ের কোপে কনস্টেবলের কবজি বিচ্ছিন্ন

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামির দায়ের কোপে কনস্টেবলের কবজি বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আসামি ধরতে গিয়ে দায়ের কোপে এক পুলিশ কনস্টেবলের হাতের কবজি বিছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার সকালে পদুয়া ইউনিয়নের লালারখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আরো এক পুলিশ সদস্য এবং মামলার বাদী আহত হয়েছেন।

কবজি হারানো পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. জনি খান (২৮)।

বিজ্ঞাপন

তিনি কুমিল্লার কোতোয়ালি রত্নারতা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।

তিনি ২০২০ সালের ৬ জুলাই থেকে লোহাগাড়া থানায় কর্মরত। আহত অন্য কনস্টেবলের নাম শাহাদাত হোসেন (২৭) এবং বাদীর নাম আবুল হোসেন (৪৫)।

জনি খানকে গতকাল বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর বাম হাত থেকে বিচ্ছিন্ন কবজি জাড়া লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান জানান, একটি নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি ও পদুয়া ইউনিয়নের আধার মানিকের লালারখিল এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে কবির আহমদ গতকাল সকালে বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদ পায় পুলিশ। এরপর লোহাগাড়া থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্ত, এএসআই মজিবুর রহমান, কনস্টেবল মো. জনি খান ও শাহাদাত হোসেন মামলার বাদী আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আসামির বাড়িতে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কবির দা হাতে নিয়ে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকেন। কনস্টেবল জনি ও শাহাদাত তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে কবির পুলিশ ও মামলার বাদীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। দায়ের কোপে জনির বাঁ হাতের কবজি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া কনস্টেবল শাহাদাত হোসেন এবং মামলার বাদী আবুল হোসেন কালুও আহত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতের উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক জনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত অপর পুলিশ কনস্টেবল ও মামলার বাদীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শিবলী নোমান জানান, পুলিশ কবিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনিকে গতকাল চমেক হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বিকেলে জানান, চমেক হাসপাতালে আনার পর জনিকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। বাঁ হাতের কবজি জোড়া লাগানোর জন্য ঢাকার আল-মানার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা