kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতি

গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবি নাকচ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবি নাকচ

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বিক্ষুব্ধ জনগণ ও বিরোধী নেতাদের দাবি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রাজাপক্ষে পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীরা তাঁর ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ারও পদত্যাগ দাবি করছে। কিন্তু শপথবাক্য পাঠ করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গোতাবায়ার পাশেই দাঁড়ালেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক বিক্রমাসিংহে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা জানালেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, গোতাবায়া পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি কোনো ফল বয়ে আনবে না। জনগণ যাতে বাঁচতে পারে সে জন্য আমি আছি। ’ অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে উল্লেখ করে বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘ধৈর্য ধরুন, আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করব। ’

পরিবারগুলোর তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য বিশ্বের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না। আমরা খাদ্য পাব। ’ 

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রনিল বিক্রমাসিংহে জাতীয় ঐক্যের সরকার গড়তে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ২২৫ সদস্যবিশিষ্ট আইনসভার প্রধান বিরোধী দল সামাগি জানা বালাগেওয়াগায়ার (এসজেবি) একটি অংশ রাজাপক্ষে পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো সরকারে অংশ নিতে চায় না। অনেক ছোট দলও এ বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে।

এ অবস্থায় গতকাল শনিবার প্রধান বিরোধী দল এসজেবির নেতা সাজিথ প্রেমদাসা ও বিক্রমাসিংহে পরস্পরকে চিঠি দেন।

সাজিথ প্রেমদাসাকে লেখা চিঠিতে বিক্রমাসিংহে জনগণের সংকট নিরসনে এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশকে স্থিতিশীল করতে নবগঠিত সরকারকে সহযোগিতার জন্য এসজেবির সমর্থন চান। জবাবে সাজিথ প্রেমদাসা বলেন, গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে এমন কোনো প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা উচিত নয়, যা বর্তমান সংকট কাটানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, একমাত্র বহুদলীয় সরকার গঠিত হলেই তিনি তাতে সমর্থন দেবেন।

এদিকে গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ প্রত্যাহার করে নতুন সরকার। মঙ্গলবার আইনসভার অধিবেশনের আগে মন্ত্রিসভা গঠনের কথা রয়েছে।

বর্তমান আইনসভায় রনিল বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) মাত্র একটি আসন রয়েছে। সেটিও তাঁর নিজের। কিন্তু বলা হচ্ছে, আইনসভায় সরকার টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না তাঁকে। কারণ রাজাপক্ষে পরিবারের দল পোদুজানা পেরামুনা বিক্রমাসিংহেকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে বিক্রমাসিংহে রাজাপক্ষে পরিবারের ঘনিষ্ঠ। দৃশ্যত সে কারণেই বর্তমান সংকট সামাল দিতে রাজাপক্ষে পরিবার তাঁর ওপর ভরসা করেছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কার মানুষ রাজাপক্ষে পরিবারের কাউকে আর এখন বিশ্বাস করছে না। অনেক রাজনৈতিক দল নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলছে। সূত্র : বিবিসি ও ডেইলি মিরর



সাতদিনের সেরা