kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

সুজনের সংবাদ সম্মেলন

ইসি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই

সরকার নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে যে আইন করতে যাচ্ছে, তা সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে কাজ করতে হবে। কিন্তু সংসদে উত্থাপিত ইসি গঠন আইনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন বলা হয়েছে। এ অবস্থায় কি সংবিধান সংশোধন করতে হবে?

গতকাল রবিবার সকালে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

সুজনের সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। সুজনের

নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, আইনজীবী শাহদীন মালিক, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দর খান, সিলেট জেলা সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী ও রাজশাহী জেলা সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘বারবার শুনে আসছি আইন করার সময় নেই, এখন করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপেও রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সময় নেই। এরপর হঠাৎ কী পরিবর্তন হয়ে গেল! মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদন হয়ে সংসদে উঠে গেল। সংসদে ছয় মিনিটে আইন পাসের উদাহরণ আছে। এই আইনও দ্রুত পাস হয়ে যাবে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, আমরা আগের মতোই নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। ’

বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুসন্ধান কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হলে ওই কমিটির কিছু করার থাকবে না। আইনটি যে ভালো উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, এ রকম কোনো নজির দেখছি না। রাখঢাক করে এই আইন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে আগের মতোই নির্বাচন করা। ’

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা কমিশনে থাকাকালে যে খসড়া প্রস্তাব করেছিলাম সেখানে বলা ছিল, সুপারিশ করা নামগুলো প্রথমে সংসদের বিশেষ কমিটিতে যাবে। সেখানে আলোচনা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এই কমিটিতে যদি সব দলের সমানুপাতিক অংশগ্রহণ থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম থাকে। ’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে যেসব যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, তার আলোকে হাজার হাজার ব্যক্তিকে বিবেচনায় রাখা সম্ভব, যে কাউকে নিয়োগ দিলেই হলো। দুই মাস আগে আইনমন্ত্রীর কাছে আমাদের খসড়ার কপি দিতে গেলে উনি সময় নেই বললেন। এখন কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি আইন পাস করছেন। তাঁদের মতো করে নির্বাচন করার জন্যই আলোচনা না করে এই আইন করা হচ্ছে। ’

বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘স্বীয় বিবেচনায় কাউকে মনোনীত করার ক্ষমতা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দেয়নি। বোঝাই যাচ্ছে, মনোনয়ন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই আসবে। সরকারের নির্ধারিত অনুসন্ধান কমিটি দিয়ে সরকারের নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। কর্তৃত্ববাদীরা এমনভাবে নির্বাচন করে, যাতে তারা জয়ী হয়। এত দিন আমরা আইন করার কথা বলতাম, এখন আইন করে দিচ্ছে। আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি করেই এই আইন করা হচ্ছে, লুকোচুরি করা তো আইনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। ’ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের মধ্যে একটা নার্ভাসনেস চলে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। সে কারণে সব পক্ষের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি এই আইন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন কাজ করবে’ এ কথা থাকতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ হলে সংবিধানের ষোলো আনাই মিছে হয়ে যায়।

লিখিত বক্তব্যে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খসড়া আইনটির সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটির জন্য ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারি করা প্রজ্ঞাপনের পার্থক্য নেই বললেই চলে। ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন ও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে এটা পরিষ্কার, এটা ঠিক নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন নয়, অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন।



সাতদিনের সেরা