kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

খানজাহান (রহ.)-এর বসতভিটায় খনন

উঠে আসছে ৬০০ বছর আগের ইতিহাস

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 উঠে আসছে ৬০০ বছর আগের ইতিহাস

খনন চলছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর বসতভিটায়। এরই মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মাটির নিচে থাকা প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগের বিভিন্ন স্থাপত্য কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পেয়েছে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ খানহাজান (রহ.)-এর বসতভিটায় খনন করে মিলেছে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগের বিভিন্ন কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ। মাটির স্তরে স্তরে মিলছে পুরনো মেঝে, দেয়াল, অলংকৃত ইট এবং মৃিশল্পের নমুনা। পাওয়া গেছে সুলতানি ও মোগল আমলের বিভিন্ন তৈজস।

এর আগে কয়েক দফায় খনন করে মাটির নিচে পঞ্চদশ শতকে নির্মিত খানজাহান (রহ.)-এর বাসভবনের বিভিন্ন কক্ষের ভিত্তি, প্রাচীর, গোলাকার বুরুজ, প্রাচীন সড়ক, পাথর ও চীনামাটির পাত্রের টুকরা এবং পানি নিষ্কাশনের নর্দমার সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদের অদূরে সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামে খানজাহান (রহ.)-এর বসতভিটা। সেখানেই কয়েক সপ্তাহ ধরে খনন করা হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ১০ একর আয়তনের এই বসতভিটায় খননকাজ করছে। গত ৩১ ডিসেম্বর নতুন দফায় খননকাজ শুরু করা হয়। চলবে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সুন্দরঘোনা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাতজনের বিশেষজ্ঞ দল সুফি সাধক হজরত খানজাহানের বসতভিটায় খননকাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় ১৪ জন নারী-পুরুষকর্মী খননকাজে যুক্ত হয়েছেন। মাটি খুঁড়ে দুই থেকে তিন মিটার গভীরে গেলেই মিলছে বিভিন্ন নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতার নেতৃত্বে এই খননকাজ চলছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ আশা করছে, খননকাজ সম্পন্ন হলে হজরত খানজাহানের বাসভবন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। বেরিয়ে আসবে ইতিহাসের অমূল্য প্রামাণ্য উপাদান।

১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো হজরত খানজাহানের নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ১৭টি স্থাপনা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে। তাঁর বসতভিটা এর অন্যতম।

খানজাহান (রহ.) বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ইসলাম প্রচারক, জনকল্যাণকারী এবং এই অঞ্চলে জনপদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত। বলা হয়ে থাকে, ৬০ হাজার যোদ্ধা ও ১১ জন আউলিয়া নিয়ে তিনি এ দেশে আগমন করেন। আজকের বাগেরহাটে তাঁর আগমন ঘটে ১৪২৯ খ্রিস্টাব্দে। মাজারে পাথরে খোদাই করে তাঁর মৃত্যুর তারিখ লেখা রয়েছে ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ।

খানজাহান (রহ.)-এর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ষাটগম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদ সে যুগের মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, বসতভিটায় খননকাজের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যযুগের অন্যতম ঐতিহাসিক শহর খলিফাতাবাদের (বর্তমান বাগেরহাট) সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং তখনকার জনজীবন, ঘরবাড়ি সম্পর্কে জানা। সুন্দরঘোনা গ্রামেই খানজাহান (রহ.)-এর বসতবাড়ি তা নিশ্চিত হওয়া গেছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খান মিতা জানান, এটি নিশ্চিত করে বলার মতো ঐতিহাসিক কোনো দলিলপত্র বা উপাদান নেই। তবে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এটাই এই মহান সাধকের বসতবাড়ি। নিশ্চিত হতে হলে আরো অনেক দিন ধরে খননকাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।

বাগেরহাট জাদুঘরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জায়েদ জানান, বসতভিটায় খনন করে যেসব নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে, তা জাদুঘর অথবা সংরক্ষণাগারে রাখা হবে। এসব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ষাটগম্বুজ মসজিদের ইমাম হেলাল উদ্দিন বলেন, খননকাজ শেষ হলে মানুষ খানজাহান (রহ.)-এর বসতবাড়ি সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে।

 



সাতদিনের সেরা