kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

চট্টগ্রামে এ বছরেই হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম    

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে এ বছরেই হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ : আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রামে হাইকোর্টের ‘সার্কিট (অস্থায়ী) বেঞ্চ’ বসানোর বিষয়ে কিছুদিনের মধ্যে ঘোষণা আসবে বলে জেলার আইনজীবীদের আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে একটি সার্কিট বেঞ্চ পাচ্ছি। ’

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আনিসুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামে একটি হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবি আপনাদের। আমি আপনাদের একটি সুখবর দিই। সেটি হচ্ছে নতুন প্রধান বিচারপতি যিনি হয়েছেন, আমি তাঁর সঙ্গে সার্কিট বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আমার মনে হয়, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে একটি সার্কিট বেঞ্চ পাচ্ছি। ’ কিছুদিনের মধ্যে এসংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সার্কিট বেঞ্চ হবে। এ বিষয়ে আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এটি চান। এ ব্যাপারে কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো আমরা একটি ঘোষণা দিব। ’ 

আনিসুল হক বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এখন কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে। অপরাধ করে এখন আর পার পাওয়া যাবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে। ’ 

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইনজীবীদের ভূমিকা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বারের পর সবচেয়ে বড় বার হচ্ছে চট্টগ্রাম বার। আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইন পেশা ও আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশের জন্মের আগে যত আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর সব প্রচেষ্টায় আইনজীবীরা তাঁর পাশে ছিলেন। যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে, সব আন্দোলনে আইনজীবীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। ’

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিচারাঙ্গনে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার আহবান জানান।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনসচিব মো. গোলাম সারওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন বক্তব্য দেন।

চট্টগ্রামে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের দাবি অনেক পুরনো। এই দাবি বাস্তবায়নে ‘হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের আইনজীবীদের একটি সংগঠনও আছে চট্টগ্রামে।

এইচ এম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১১ মে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর, বরিশাল, কুমিল্লা ও সিলেটে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বসানো হয়। এর চার বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালের ১৭ জুন সামরিক ফরমানের ৪(এ) ধারা সংশোধন করে স্থায়ী বেঞ্চগুলোকে সার্কিট বেঞ্চে রূপান্তর করা হয়।

এরপর ১৯৮৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বেঞ্চগুলো রাজধানীতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাজধানী ছাড়া দেশের আর কোথাও স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ বা সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন করা হয়নি।

সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকিবে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে অন্য যে স্থান বা স্থানসমূহ নির্ধারণ করিবেন, সেই স্থান বা স্থানসমূহে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে। ’



সাতদিনের সেরা