kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ওই শিক্ষকের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে আগের কমিটি বাতিল করে নতুন একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ক্যান্টিন পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের কিছু নেতা তাঁদের হাতে তুলে দিতে এই অধ্যাপকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। ড. সেলিম ওই হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের মো. তাহামিদুল হক ইশরাক, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং (এলই) বিভাগের মো. সাদমান সাকিব, একই বিভাগের আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, সিই বিভাগের মাহমুদুল হাসান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগের মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের মো. রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের ফয়সাল আহমেদ রিফাত এবং ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগের মো. নাইমুর রহমান অন্তু।

গতকাল শনিবার কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি ২ ও ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম (জরুরি) সভায় উত্থাপন করা হলে সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় ৯ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মারা যান সেলিম হোসেন। অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর আগে ক্যাম্পাসে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন। ওই দিন রাত থেকেই প্রতিবাদে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান শিক্ষকরা।

‘ক্যান্টিন পরিচালনা ছাত্রলীগ নেতাদের দিতে চাপে ছিলেন ড. সেলিম’

কুয়েটের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার পেছনে রয়েছে হলের ক্যান্টিন পরিচালনার মাধ্যমে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ছাত্রের অবৈধভাবে আয়ের কারবার। তাঁরা এ সুযোগ পেতে ওই শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

জানা গেছে, কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একাধিক উপদল রয়েছে। তাদের একটি উপদল নিয়ন্ত্রণ করেন ছাত্রলীগ কুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান। লালন শাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) হিসেবে সেজান সমর্থিত প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য প্রভোস্ট সেলিমকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল এবং তাঁদের কথা না শুনলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

গত মঙ্গলবার সেজানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র ড. সেলিমকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের দেখা গেছে। এর আগে কয়েক মাস ধারাবাহিকভাবে সেজান সমর্থকরা ক্যান্টিন ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া সেজান সমর্থকদের অনেকের কাছেই ডাইনিংয়ের খাবারের বিল বাবদ কর্তৃপক্ষের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এবার প্রভোস্ট সেলিম বিষয়টি কড়াকড়িভাবে দেখছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে ছাত্রসংখ্যার ভিত্তিতে ক্যান্টিন পরিচালনা বাবদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা জমা হয়। এই টাকা প্রভোস্টের কাছে জমা হলেও বাজার করার দায়িত্ব পালন করেন ব্যবস্থাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কথাও চালু আছে যে হল ব্যবস্থাপকরা অবৈধ আয়ে মোটরসাইকেলও কিনতে পারেন। আর ব্যবস্থাপক বা নেতার অনুসারীরা টাকা না দিয়েই খাবার খান। এ কারণে সেজান অনুসারীরা জোর করে হল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসতে চাইছিলেন।

শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিন বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা