kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধান জারি

খাদ্যে ২ শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাট থাকলে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাদ্যে ২ শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাট থাকলে ব্যবস্থা

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ২ শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাট নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর বেশি হলে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন থেকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ শীর্ষক প্রবিধানমালা জারি করে।

শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একটি ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান। অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে যেকোনো মানুষের হৃদরোগ, হৃদরোগজনিত মৃত্যু, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া) এবং স্বল্প স্মৃতিহানি (কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট) ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও), যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামেই পরিচিত।

সাধারণত বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা স্ন্যাকস, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং সড়কসংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে ডালডা ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্য থেকে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে সব তেল, ফ্যাট ও খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

প্রবিধানমালার ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, জাবর কাটা পশু যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষের (রুমিন্যান্ট) মাংস থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে প্রাকৃতিক ট্রান্সফ্যাট ব্যতীত প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট থাকতে পারবে। ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, খাদ্যে কী পরিমাণ ট্রান্সফ্যাট রয়েছে, তা পণ্যের

মোড়কে ঘোষণা দিতে হবে। খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ খাদ্য আইনে জেল-জরিমানা হবে। অনিরাপদ খাদ্য পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

২০১৯ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও ব্র্যান্ডগুলোর নমুনার ৯২ শতাংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ২ শতাংশ মাত্রার বেশি ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সংস্থাটির প্রকাশিত ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্সফ্যাটের ফলে হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক বলেন, বর্তমানে তরুণ ও মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণই বেশি দায়ী।

বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) দক্ষিণ এশিয়া প্রগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক বন্দনা শাহ বলেন, ভারত, ব্রাজিল, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ থেকে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের তালিকায় যুক্ত হলো। এই নীতি হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ প্রসঙ্গে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রবিধানমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্সফ্যাট। প্রবিধানমালাটি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে।’

 



সাতদিনের সেরা