kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাস রুট রেশনালাইজেশন

পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এবারও অনিশ্চিত

সজিব ঘোষ   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এবারও অনিশ্চিত

রাজধানীর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একটি রুটে আগামী বুধবার দুটি কম্পানির অধীনে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। মূলত নতুন বাস না থাকার কারণে আরেক দফা সময় বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আজ রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশনের ১৯তম সভা হওয়ার কথা। সভা শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বিজ্ঞাপন

গত ৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একটি রুটে দুটি কম্পানির বাস চালু করার কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। পরে ৪ অক্টোবর ‘পরীক্ষামূলক চালাতেই লাগবে আরো ছয় মাস’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর ছিল বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৮তম সভা। সেই সভা শেষে ফজলে নূর তাপস জানিয়েছিলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে।

নগর ভবনের একটি সূত্র জানায়, ১ ডিসেম্বর থেকে বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হচ্ছে না। বাস মালিকরা আগে জানিয়েছিলেন, এই রুটে বাস চালাতে তাঁদের নতুন বাস প্রস্তুত। এখন দেখা যাচ্ছে, সবই পুরনো বাস। মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বাস চালানোর প্রস্তুতি আছে তাদের। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ। কাঁচপুরে টার্মিনাল তৈরি না হলেও সড়ক বিভাগের জায়গা আছে, যেটি ব্যবহার করা যাবে। আর ঘাটারচরে টার্মিনালের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। কিন্তু বাস মালিকদের তো নতুন বাস নেই। এই পথেও যদি ভাঙা বাস চালানো হয়, তাহলে বাস রুট রেশনালাইজেশনের দরকার কী?

৫ অক্টোবরের সভা শেষে দক্ষিণের মেয়র বলেছিলেন, নতুন এই রুটে কোনো পুরনো বাস থাকবে না। এখন এই রুটে যেসব পুরনো বাস চলছে, সেগুলো উঠিয়ে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে রেশনালাইজেশনের অধীনে গণপরিবহন চালাতে যে ধরনের অবকাঠামো দরকার, সেটা এখনো করা যায়নি। ঘাটারচরে বাসের ডিপোর জমি এখনো অধিগ্রহণ করা হয়নি। এই একটি রুটের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে বাকি ৪১টি রুটের ভবিষ্যৎ। তাই পুরো কাজটি নিখুঁত করতেই সময় আরো বেশি লাগছে। এই পথে ৪০টি বাস স্টপেজ থাকবে। এর বাইরে বাস দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে আরো ১৭টি। থাকবে ৪০টি যাত্রীছাউনি। মালঞ্চ ও রজনীগন্ধা মিলিয়ে তৈরি করা হবে একটি কম্পানি। এর অধীনে চলবে ১৫৫টি বাস।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চলা প্রথম রুট ব্যর্থ হলে বাস রুট রেশনালাইজেশনের ওপর মানুষের ভরসা উঠে যাবে। বারবার সময় পেছানোর জন্য বাস মালিক, সিটি করপোরেশন ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যর্থতা রয়েছে।

হাদিউজ্জামান বলেন, এখনো টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এটা এত দিনে হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। আর বাস মালিকদের আশ্বাস দিতে হবে, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক কম্পানিতে তাঁরাও মালিক। নয় তো বাসের মালিকরা উৎসাহ পাবেন না।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সূত্র বলে, সিটি করপোরেশনের কারণেই বাস রুট রেশনালাইজেশন পরীক্ষামূলক চালু করতে দেরি হচ্ছে। তারা এই রুটে (ঘাটারচর-কাঁচপুর) সব কিছু ঠিক করতে পারেনি।

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ২০০৪ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরিকল্পনা করা হয়। এর মূল ধারণাটা ছিল, ঢাকায় চলাচল করা সব গণপরিবহনকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা।

 



সাতদিনের সেরা