kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিনে অনুজ্জ্বল বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিনে অনুজ্জ্বল বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনের সারসংক্ষেপ বোঝাতে লিটন কুমার দাসের কথাটি তুলে দিলেই হচ্ছে, ‘এটিই ক্রিকেট। যেটি আগের দিন হয়, সেটি পরের দিন হয় না। ’

হয়নি বাংলাদেশেরই। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের বিকেলটি লিটন আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং বীরত্বে শেষ হলেও পরদিন একই সময়ের ছবিটা পুরো বিপরীত।

বিজ্ঞাপন

আগের দিন এই দুই ব্যাটার মিলে পুরো দুই সেশন কোনো উইকেট না পাওয়ার হতাশায় ডুবিয়েছিলেন পাকিস্তানি বোলারদের। এবার তাঁদের দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক মিলে সেই অনুভূতি ফিরিয়ে দিলেন মমিনুল হকদেরও।

নির্বিষ বোলিংয়েরও ভূমিকা থাকল তাতে। এর আগে স্বাগতিকদের জন্য সকালটিও আসেনি আনন্দের কোনো বার্তা নিয়ে। বরং কথা রাখলেন হাসান আলী। প্রথম দিনের খেলা শেষেই এই ফাস্ট বোলার শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশকে ৩৫০ রানের নিচে আটকে রাখার লক্ষ্যের কথা। আউটসুইং আর ইনসুইংয়ের মিশেলে দিনের শুরু থেকে কাঁপালেনই না শুধু, তুলে নিতে থাকলেন উইকেটও।

সুইংয়ের ধাঁধায় সকালেই ফেরালেন লিটন আর অভিষিক্ত ইয়াসির আলী চৌধুরীকে। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা মুশফিকও টেস্টে চতুর্থবারের মতো আউট হলেন নার্ভাস নাইনটিজে। শেষে পরপর দুই বলে আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে হাসানের ৫ উইকেটও হয়, সেই সঙ্গে বাংলাদেশও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে গুটিয়ে যায় ৩৩০ রানে। বিরতির পর থেকে বিকেল অবধি পরের সময়টি শুধুই পাকিস্তানের। একটু রয়েসয়ে খেলা আব্দুল্লাহ শফিক (১৬২ বলে ৫২*) ও সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা আবিদ আলীর (১৮০ বলে ৯৩*) ব্যাটে বিনা উইকেটে ১৪৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। এখনো ১৮৫ রানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের দিনের শুরুর বোলিং আর পরের ব্যাটিং যোগ হয়ে বাংলাদেশ পার করেছে হতাশার দিনই।

১১৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা লিটনকে দিয়েই যে হতাশার শুরু। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই হাসানের ইনসুইংয়ে বলের লাইনে যেতে পারেননি সেঞ্চুরি দিয়ে দুঃসময়কে পেছনে ফেলা ব্যাটার। বল লাগে পেছনের পায়ে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। নিজের সংগ্রহে আর মাত্র ১ রান যোগ করেই ফিরে যান লিটন। শাহীন শাহ আফ্রিদিকে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খোলা ইয়াসির আলী চৌধুরীকেও (৪) ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারিতেই বোল্ড করেন হাসান। দ্রুত এই দুই ব্যাটারের বিদায়ে আরো সাবধানী মুশফিকও টেকেননি বেশিক্ষণ। হাসানের জায়গায় আক্রমণে আসা আরেক পেসার ফাহিম আশরাফের বলে তাঁর বিদায় রহস্যের সমাধান অবশ্য রিভিউ নিয়েও করা যায়নি।

আম্পায়ার কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেওয়ার পর রিভিউ নেন মুশফিক; কিন্তু বল ব্যাট পেরিয়ে যাওয়া এবং ব্যাট প্যাডে লাগার সময় একই হওয়ায় নিশ্চিত বোঝার উপায় ছিল না যে শব্দটা আসলে কোত্থেকে হয়েছে। রিভিউয়ে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই তৃতীয়বারের মতো সেঞ্চুরি বঞ্চনায় পুড়তে হয় মুশফিককে (৯১)। সকালে ২১ রানের মধ্যে লিটন-ইয়াসির-মুশফিককে হারিয়ে বাংলাদেশের ৩০০ রানের নিচে অল আউট হওয়ার শঙ্কাই জেগেছিল। তা সত্যি হয়নি টেল এন্ডারদের নিয়ে ৬৮ বলে ছয় বাউন্ডারিতে মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংসে।

পরের দুই সেশন নিজেদের করে নেওয়া শফিক ও আবিদকে তেমন ভোগাতেও পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। শফিককে ফেরানোর যা-ও একটি সুযোগ এসেছিল, সেটিও হেলায় হারান মমিনুলরা। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বল একটু ভেতরে ঢুকে আঘাত হেনেছিল ৯ রানে থাকা শফিকের প্যাডে। কিন্তু বল ব্যাট না প্যাডে আগে লেগেছে, তা নিয়ে দ্বিধায় বাংলাদেশও রিভিউ নেয়নি। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল আগে পাকিস্তানি ওপেনারের প্যাডেই লেগেছে। রিভিউ নিলে তাই শফিককে ফিরতেই হতো।

তা না নেওয়ায় বোলিংয়েও সাফল্যহীন দিন বাংলাদেশের!



সাতদিনের সেরা