kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুমিল্লায় কাউন্সিলর খুন

পালানোর সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পালানোর সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা খুনের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজের ছবি গতকাল ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে; যেখানে দুই মুখোশধারীকে আশপাশের বাড়িঘর লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ছবি : সংগৃহীত

কার্যালয়ে ঢুকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী আওয়ামী লীগকর্মী হরিপদ সাহা হত্যার ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মাসুম। এর আগে গত বুধবার মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরাইশ এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তিনি হত্যা মামলার ৯ নম্বর আসামি।

কাউন্সিলর হত্যাকাণ্ডের পর সন্ত্রাসীরা পালানোর সময় আশপাশের বাসাবাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিওতে এমনটাই দেখা গেছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান চালিয়ে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পার হলেও মামলায় প্রধান আসামি পাশের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর পূর্বপাড়া বউবাজার এলাকার শাহ আলমকে ধরতে পারেনি পুলিশ। নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী ও তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ বলছে, শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হলেই খুনের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহা হত্যার ঘটনায় নিহত সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ রুমন ১১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আনওয়ারুল আজিম বলেন, ‘আমরা সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করছি। শাহ আলমকে ধরতে মাঠে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আলোচিত এই দুই খুনে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গতকাল কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র, সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে একই দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর জমির উদ্দিন খান জম্পি, কাউন্সিলর সরকার মো. জাবেদ, মাসুদুর রহমান মাসুদ অংশ নেন।

এলাকাবাসীর দিকেও গুলি করে সন্ত্রাসীরা

হত্যায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের গুলি করার সিসিটিভির একটি ভিডিও ফুটেজ গত বুধবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা ঘটনার সময় শুধু কাউন্সিলর কার্যালয় নয়, গুলি চালিয়েছে এলাকাবাসীর দিকেও। কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০ গজ পশ্চিমে মুখোশ পরা দুই অস্ত্রধারী আশপাশের বাসাবাড়িতে গুলি করছে—ক্যামেরায় এমন দৃশ্য ধরা পড়ে।

দুই মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, সোহেলের কার্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে সুজানগর থেকে পাথুরিয়াপাড়া সড়কে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি গুলি করছে। এ সময় আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। স্থানীয় লোকজন ওপর থেকে তাদের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদের দিকে গুলি করছে। গুলি ছুড়তে ছুড়তে পশ্চিম দিকে গিয়ে ফের পূর্ব দিকে কাউন্সিলরের কার্যালয়ের দিকে চলে যায় তারা। ভিডিও ফুটেজে এক যুবকের হাতে দুটি এবং আরেক যুবকের হাতে একটি পিস্তল দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই এলাকাবাসী বাড়িঘর থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে কাউন্সিলরের কার্যালয়ের দিকে ছুটলে ঘাতকরা ফাঁকা গুলি করতে করতে এবং ককটেল ফাটিয়ে বউবাজার দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত সোমবার নিজ কার্যালয়ে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে সহযোগীসহ খুন হন কাউন্সিলর সোহেল। এ সময় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 



সাতদিনের সেরা