kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ঐক্যের ডাক দিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রপতি ঐক্যের ডাক দিলেন

সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার ঐক্য। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি প্রবেশের আগেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশির ভাগ সংসদ সদস্য (এমপি) উপস্থিত হন।

বিজ্ঞাপন

তবে অসুস্থতার কারণে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়াসহ কয়েকজন অনুপস্থিত ছিলেন। সংসদে প্রায় আধাঘণ্টার ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এখন পৃথিবীর যে ১১টি দেশকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য ‘উদীয়মান এগারো’ বলে অভিহিত করা হয়, এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই আসুন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি। ’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ কোনো স্বপ্ন নয়, বাস্তব উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর অন্যান্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে দেশে স্বস্তি বিরাজ করছে, যা বিশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সুধীসমাজ এবং অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘করোনা মহামারি আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি। সরকারের সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। এরই মধ্যে চার কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৮ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সোপান বেয়ে আমরা পৌঁছে গেছি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর স্বর্ণতোরণে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ সমাপ্তির পথে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় মনোবল, বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত পোশাক, সিমেন্ট, ওষুধ, ফুল, সবজি, মাছসহ অসংখ্য পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পোশাক রপ্তানিতে এবং ইন্টারনেটভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পরও উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ’



সাতদিনের সেরা