kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আলুর দাম হঠাৎ কেন বাড়ল

রোকন মাহমুদ   

২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আলুর দাম হঠাৎ কেন বাড়ল

কিছুদিন আগেও হিমাগারে মজুদ থাকা আলু যথাসময়ে বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কারণ দাম কম হওয়ায় হিমাগার থেকে অনেকে আলু তুলছিলেন না। তবে এখন চিত্র ভিন্ন। আলুর দাম হঠাৎ কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে হিমাগার থেকে আলু বিক্রিও হচ্ছে অনেক।

গত ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত হিমাগার মালিকরা যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে আলুর মজুদ চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। ফলে ঘাটতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছিল। মূলত এ কারণেই বদলে গেছে আলুর বাজার। এ ছাড়া বীজ আলুর চাহিদা বাড়াটাও দাম বাড়ার আরেক কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

খুচরা বাজারে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আলুর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা। গতকাল সোমবার রাজধানীর মালিবাগ, বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন ছায়েদ আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে খুচরায় আলু বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। অর্থাৎ গড়ে সাড়ে আট টাকা বা ৪৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন হিমাগারে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু, যা গত মাসের মাঝামাঝিতেও ছিল ১০ থেকে ১১ টাকা। অর্থাৎ এ সময় দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বা ৪৭ শতাংশ। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২১ থেকে ২৩ টাকা কেজি।

জানতে চাইলে মালিবাগ বাজারের আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. মোতালেব কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর দাম বেশি থাকায় অনেকে এবার বাড়তি আলু হিমাগারে মজুদ করেছে। কিন্তু এবার দাম কম হওয়ায় লোকসানে পড়েছে তারা।

তাই মৌসুমের শেষ দিকে যখন আলুর মজুদ কমে এসেছে, দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্যান্য সবজির তুলনায় আলুর দাম এখনো অনেক কম বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের সবজির দাম এখনো ৫০ টাকার ওপরে। একমাত্র আলু কিনতে পারছেন ২৫ টাকা কেজিতে। ’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে দেখা গেছে, গত জুলাই-আগস্ট মাসে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরায় আলু বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। সেপ্টেম্বর মাসে দাম কমে ১৮ থেকে ২২ টাকায় নেমে আসে। অক্টোবরের শুরুতে দাম আরেকটু কমে ১৬ থেকে ২০ টাকায় নামে। এ সময় হিমাগার পর্যায়ে আলুর দাম নেমে আসে ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি। এই দামে বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে জানিয়ে হিমাগার মালিকরা উদ্বৃত্ত আলু সময়মতো বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরকারি হিসাবে দেশে গত মৌসুমে আলু উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি ছয় লাখ টন। দেশে খাওয়ার আলুর চাহিদা রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন। বীজ আলু বাদ দিলে কমবেশি ২০ লাখ টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। তবে আলুর বেসরকারি হিসাব কিছুটা ভিন্ন।

হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে খাওয়ার আলুর চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। গড়ে প্রতি মাসে সাড়ে সাত লাখ টন। এ ছাড়া বীজ আলুর চাহিদা আট লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার কথা ১২ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন।

চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলে ৪০০ হিমাগারে ৪০ লাখ টন আলু রাখা হয়েছে খাওয়া ও বীজের জন্য। কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৫ অক্টোবরের হিসাব বলছে, হিমাগার থেকে ৫৫ শতাংশ বা ২২ লাখ টন আলু বের হয়েছে। সে হিসেবে হিমাগারে মজুদ ছিল ১৮ লাখ টন। এর মধ্য থেকে বীজের জন্য লাগবে প্রায় আট লাখ টন। অর্থাৎ খাওয়ার জন্য হিমাগারে আলু মজুদ রয়েছে ১০ লাখ টনেরও কম। যদি মধ্য ডিসেম্বরের পর আগাম আলু বাজারে আসে, তবে গত মৌসুমের আলু দিয়ে চলতে হবে আরো দুই মাস। আলু লাগবে প্রায় ১৫ লাখ টন।

তবে আগাম আলু দিয়ে বাজারের চাহিদা পুরোপুরি মেটে না। তাই আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আগামী মৌসুমের আলুর জন্য। সে হিসাবে গত মৌসুমের আলু দিয়ে চলতে হবে কমপক্ষে তিন মাস। অর্থাৎ ২২ লাখ টনের বেশি আলুর চাহিদা রয়েছে এখনো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যদি আগাম আলু পর্যাপ্ত না আসে, তবে আলুর ঘাটতি আরো বাড়বে। এমন হিসাবই আলুর বাজার বদলে দিয়েছে।

হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, আগাম আলু ওঠার কথা ছিল নভেম্বরের শেষ দিকে। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে অনেক আলুর ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় নতুন করে আবাদ করতে হয়েছে। আগাম আলু বাজারে আসার সময় পিছিয়ে গেছে। এখন মধ্য ডিসেম্বরের আগে আগাম আলু বাজারে আসার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া আগাম আলুর জন্য বীজ লাগছে দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে চাহিদা বাড়তে থাকায় দামও বেড়েছে।

 



সাতদিনের সেরা