kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আবার ভূপাতিত টাইগাররা

মাসুদ পারভেজ, আবুধাবি থেকে

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




আবার ভূপাতিত টাইগাররা

ব্যাটে-বলে নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিবও। ছবি : মীর ফরিদ, আবুধাবি থেকে

ভিনগ্রহের উড়াল যান উড়ে এলেই বোধ হয় সুরক্ষা পেতে পারত বাংলাদেশ! কিন্তু কাল্পনিক সেই বাহন তো আর বাস্তবে আছড়ে পড়বে না। ঠিক সেভাবেই মাহমুদ উল্লাহদের ইংল্যান্ডকে হারানোর দূরতম কল্পনাও আবুধাবির ধূসর মরুতে ক্ষণিকের জন্য হলেও ঝলমলিয়ে উঠল না। 

যা ছিল তা শুধুই বিধ্বস্ত হওয়ার অপেক্ষা। সেই অপেক্ষায় কল্পনা আর বাস্তব নিয়ে এত আলোচনার কারণ এখানকার শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। মরুর বুকে এটি যেন কল্পনাকে ফুটিয়ে তোলা ছবি হয়েই দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দূর থেকেও দৃষ্টি কাড়তে বাধ্য এর অর্ধবৃত্তাকার ছাদ, যা তৈরি করা হয়েছে ইউএফওর (আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট) আকারে। দেখে যেন মনে হয়, ভিনগ্রহের উড়াল যানই মরুতে অবতরণ করে আছে।

এখানেই টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম দেখায় উইকেটও বাংলাদেশের জন্য দুর্বোধ্য ছিল না। যদিও আবুধাবির সম্ভাব্য ধীরগতির উইকেট প্রতিপক্ষের স্পিনারদের সহায়ক হবে ধরে নিয়েই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটাররাও। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই দেখা গেল বল খুব ভালো ব্যাটে আসছে। তাতে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ব্যাটারদের সুবিধাই হওয়ার কথা। কিন্তু হলো উল্টো। নিজেদের দক্ষতা মেলে ধরতে না পারার পাশাপাশি ভুল শট বাছাইয়ে ব্যাটাররা বরং দলকে নিয়ে গেলেন খাদের কিনারেই।

এক পর্যায়ে এমন অবস্থা হলো যে দলের সংগ্রহ ১০০ পার হওয়া নিয়েই সংশয় জেগেছিল। সেই শঙ্কা দূর হলেও বাংলাদেশ যেখানে গেল, তা নিয়েও লড়াইয়ের আশা দুরাশাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে আসা ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাড়া করার লক্ষ্য পেয়েছিল মাত্র ৫৬ রানের। এবার বাংলাদেশ দিতে পারল এর দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু বল যখন খুব ভালো ব্যাটে আসছে, তখন ইংল্যান্ডের সামনে মাহমুদ উল্লাহরা স্কোরবোর্ডে ১২৪ রান জমা করতেই আসলে ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

তার ওপর বাংলাদেশের স্পিনারদের বল টার্ন করাতে উইকেটের সহায়তা লাগে। সেটি না থাকায় খুব কার্যকর হতে পারলেন না তাঁরাও। ওদিকে আবার রানের বল্গা হরিণ ছোটালেন জেসন রয়। ৩৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় এই ইংলিশ ওপেনারের ৬১ রানের ইনিংসও দ্রুতগামী করে বাংলাদেশের হার। ৩৫ বল বাকি থাকতেই তাঁদের ৮ উইকেটে হারিয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের। 

যাঁদের ওপর শুরু থেকেই বাংলাদেশের চড়ে বসার পরিকল্পনা আঁচ করা গেছে প্রথম ওভারেই। মঈন আলীকে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লিটন কুমার দাস যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ব্যর্থতা ভুলে সামনে তাকানোর। কিন্তু সমস্যা হলো ইদানীং উইকেটে তাঁর স্থায়িত্ব তেমন দীর্ঘ হচ্ছে না। কালও এর ধারাবাহিকতাই ছিল। একই বোলারকে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে লিটন (৯) ফিরে আসার পরের বলেই নেই অন্য ওপেনার নাঈম শেখও (৫)। ইংলিশ অফস্পিনারের জোড়া আঘাতে শুরুতেই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ।

কিন্তু ত্রাণকর্তা হতে ব্যর্থ সাকিব আল হাসান। পেসার ক্রিস ওকসের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে একটু আগেভাগেই ব্যাট চালানোর মাসুল গোনেন এই অলরাউন্ডার (৪)। তবে তাঁকে ফেরানোয় আদিল রশীদের নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচটির ভূমিকাও কম নয়। প্রথম ৬ ওভারেই ২৭ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ফেলা দলকে পথ দেখানোর দায়িত্ব পড়ে মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদের কাঁধে। তাঁদের পথ দেখানোর মধ্যে পথ হারানোর ভয়ও উঁকি দিচ্ছিল। লেগস্পিনার রশীদকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে একবার ক্যাচ তুলেছিলেন মুশফিক, যদিও ফিল্ডার খুব কাছে ছিলেন না। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও লিয়াম লিভিংস্টোনের বেলায় বাঁচলেন না। মুশফিককে (৩০ বলে ২৯) পড়তে হলো এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। এক অফস্পিনারকে তুলে মারতে গিয়ে গড়বড় করে বিপদ ডেকে আনেন মাহমুদও (২৪ বলে ১৯)।

এর আগে-পরে মাহমুদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে আফিফ হোসেনের রান আউট এবং লেজ ছাঁটা পেসার টাইমাল মিলসের তোপের মুখে একমাত্র ব্যতিক্রম নাসুম আহমেদ। ব্যাট হাতে এক ওভারেই আদিল রশীদকে মারেন দুই ছক্কা ও একটি চার। স্বীকৃত কেউ নন, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন কিনা ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা একজন বোলার (৯ বলে ১৯*)। তাতে রান একটু বাড়লেও বল দারুণ ব্যাটে আসা উইকেটে ইংল্যান্ডের জন্য মামুলিই ছিল।

তাই কাল্পনিক উড়াল যান ফুটিয়ে তোলা স্টেডিয়ামে ওড়ার বদলে আবার ভূপতিত বাংলাদেশ!



সাতদিনের সেরা