kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

খুলনায় পুকুরে মা-বাবা ও মেয়ের লাশ

নাঙ্গলকোটে বৃদ্ধা হত্যা

খুলনা অফিস ও নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলনায় পুকুরে মা-বাবা ও মেয়ের লাশ

প্রতীকী ছবি

খুলনার কয়রায় মা-বাবা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে রাখা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের চান্দলা গ্রামে মায়া বেগম জবা (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

কয়রায় তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় লোকজন স্বাভাবিকভাবে না নিলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না। নিহতরা হলেন বামিয়া গ্রামের হাবিবুল্লাহ (৩৬), তাঁর স্ত্রী বিউটি (৩৪) এবং তাঁদের মেয়ে স্থানীয় জায়গীরমহল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী টুনি (১২)।

বামিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান জানান, গতকাল সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় দুই ব্যক্তি বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুরে লাশ তিনটি ভাসতে দেখে। এর মধ্যে হাবিবুল্লাহর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মেয়ে টুনির কপালেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাবিবুল্লাহ কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করতেন।

গ্রাম পুলিশ আব্দুল গফুর জানান, পুুকুরে তিনজনের লাশ ভাসছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার

রহমান ও কয়রা থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান। পুলিশ এসে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে।

স্থানীয় একাধিক অসমর্থিত সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে প্রতিবেশী এক নারীর আপত্তিকর কোনো ঘটনা জেনে ফেলেন হাবিবুল্লাহ। বিষয়টি তিনি ওই নারীর স্বামীকে জানান। এ নিয়ে হাবিবুল্লাহকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন সেটি মীমাংসা করে দেয়।

কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন জানান, পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চারজনকে থানায় নিয়ে গেছে।

নাঙ্গলকোটে বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের চান্দলা গ্রামে মায়া বেগম জবা নামের এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ হালিমা আক্তার স্বপ্না শাশুড়িকে সকালের নাশতা দিতে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে শাশুড়ির লাশ। পরে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সোমবার রাতের কোনো এক সময় বৃদ্ধাকে খুন করে বালিশচাপা দিয়ে রেখে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম এবং নাঙ্গলকোট থানার তদন্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মেয়ের জামাই শাহ আলম বলেন, “আমার শাশুড়ি দুই দিন আগে আমাদের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে গেছেন। আজ সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানাই।”

তদন্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম বলেন, নিহতের ঘরের আলমারির তালা ভাঙা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করতে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করলে বৃদ্ধা চিনে ফেলায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা