kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রতিবেদন

দেশগুলোর অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশগুলোর অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখতে হলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ যতটা হ্রাস করা দরকার, দেশগুলোর বর্তমান পরিকল্পনা এর অতি ক্ষুদ্র অংশ বাস্তবায়ন করবে। আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) গতকাল মঙ্গলবার এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬) শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বলা হচ্ছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার জন্য এবারের সম্মেলনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বার্ষিক ‘এমিশনস গ্যাপ’ শীর্ষক পর্যালোচনায় ইউএনইপি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে দেশগুলোর নিজ নিজ পরিকল্পনাকে ‘দুর্বল অঙ্গীকার, যা কিনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রতিবেদনে জাতিসংঘ তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখতে নিঃসরণ হ্রাসের পরিমাণ যতটা হওয়া প্রয়োজন আর দেশগুলো যে লক্ষ্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে—এই দুয়ের মধ্যে তফাতের হিসাব কষেছে। প্যারিস চুক্তিতে পৃথিবীকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে দেড় ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যটি স্থির করা হয়েছিল।

কপ-২৬-এর উদ্যোক্তারা বলছেন, তাঁরা চান দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে কার্বন হ্রাস কমানোর অঙ্গীকার জোরদার করার মাধ্যমে দেড় ডিগ্রির পথে ঠিক রাখুক। কিন্তু ইউএনএপি বলছে, ১২০টির মতো দেশের সবচেয়ে হালনাগাদ ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বলছে পৃথিবী ২.৭ ডিগ্রির পথেই চলছে।

২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারীদের প্রতি পাঁচ বছরে নতুন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনা পেশ করার কথা, যার প্রতিটি হবে আগের চেয়ে বেশি উচ্চাভিলাষী। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে দেশভিত্তিক নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)।

ইউএনএপি বলছে, সাম্প্রতিকতম অঙ্গীকারগুলো ২০৩০ সালের অনুমিত নিঃসরণ মাত্রার ৭.৫ শতাংশ কমাবে। ১.৫-এর লক্ষ্যে থাকতে গেলে নিঃসরণ কমাতে হবে ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান হারের মোটামুটি সাত গুণ! উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে গেলেও নিঃসরণ কমাতে হবে ৩০ শতাংশ। প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি সে হারের  ‘বেশ নিচে’ রাখার অঙ্গীকার করেছিল।

ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫-এর মধ্যে রাখার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে হলে আট বছরের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর মাত্রা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। পরিকল্পনা ও নীতিমালা তৈরি, এর বাস্তবায়ন এবং শেষ পর্যন্ত নিঃসরণ হ্রাসের জন্য সাকুল্যে এই আট বছর সময় হাতে রয়েছে।

ইউএনইপি বলছে, কভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে বৈশ্বিক গড় নিঃসরণ ৫.৪ শতাংশ কমে যায়, যা ছিল ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা। এর পরও এটি মানবজাতির বর্তমান নিঃসরণের হার ও দেড় ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জনের মধ্যকার ফারাক কমাতে যথেষ্ট হয়নি।

চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন তা বোঝাতে আরো কিছু হিসাব দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও এর সমতুল্য অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস আরো ২৮ বিলিয়ন টন কমাতে হবে। হিসাব কষে দেখা গেছে, এ বছরই (২০২১) শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের নিঃসরণ ৩৩ বিলিয়ন টনে উঠবে। প্রতিবেদনের সহলেখক অ্যান ওলফ এএফপিকে বলেন, ‘প্যারিস চুক্তির সময় থেকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে তা যথেষ্ট নয়।...সার্বিকভাবে যেখানে থাকা দরকার,

সেখান থেকে আমরা অনেক দূরে রয়েছি।’

বাংলাদেশ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ২১.৮৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে (ইউএনএফসিসি) হালনাগাদ ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি)’ জমা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন গত ১১ অক্টোবর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ বিষয়টি তুলে ধরেন। সূত্র : এএফপি।

 



সাতদিনের সেরা