kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সুপার টুয়েলভের সমীকরণ

রাহেনুর ইসলাম   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুপার টুয়েলভের সমীকরণ

পিছলে গিয়েছিল পা। স্কটল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে ঘিরে ধরে শঙ্কার মেঘ। গুমট হাওয়াটা কাটিয়ে আপাতত স্বস্তির সুবাতাস। ওমানকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভ অভিযানে ভালোভাবেই টিকে রইল বাংলাদেশ। তবে গতকাল পাপুয়া নিউ গিনিকে ১৭ রানে হারিয়ে সমীকরণ কিছুটা জটিল করে তুলেছে স্কটল্যান্ড।

টানা দ্বিতীয় জয়ে স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৪ আর নেট রান রেট +০.৫৭৫। তারা এখন শীর্ষে। ওমানকে হারানোর পরও বাংলাদেশ নেট রান রেটে আছে তিনে। ওমানের পয়েন্ট ২ আর নেট রান রেট  +০.৬১৩। সমান ২ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের রান রেট +০.৫০০, পাপুয়া নিউ গিনির -১.৮৬৭। শেষ ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড আর বাংলাদেশ খেলবে পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে। গতকাল বাংলাদেশ হারলে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হয়ে যেত স্কটল্যান্ড, ওমানের। তবে বাংলাদেশ জেতায় সমীকরণ মিলবে এখন শেষ দিনে। ধরা যাক শেষ দিনে বাংলাদেশ হারাল পাপুয়া নিউ গিনিকে আর স্কটল্যান্ড হারল ওমানের কাছে। তখন তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৪। আর আইসিসির নিয়মই বলছে, পয়েন্ট সমান হলে রান রেটে এগিয়ে থাকা দল যাবে পরের রাউন্ডে। নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় স্কটল্যান্ডকে হারালেই সুপার টুয়েলভের টিকিট পাবে ওমান। সে ক্ষেত্রে পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালে বাংলাদেশও হবে তাদের সঙ্গী। আর স্কটল্যান্ড যদি ওমানকে হারায় সে ক্ষেত্রে রান রেটে চোখ রাখার দরকার নেই। পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালেই টিকিট পেয়ে যাবে মাহমুদ উল্লাহর দল। আর যদি পিএনজির কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ? তখন পরের রাউন্ডের অঙ্ক মেলানোর চিন্তা না করাই ভালো।

গতকাল স্কটল্যান্ডের ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের জবাবে ৩ বল বাকি থাকতে পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি) অল আউট হয় ১৪৮ রানে। শুরুটা নড়বড়ে হলেও নরমান ভানুয়ার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে আশা জাগিয়েছিল নবাগতরা। নরমান ৩৭ বলে ৪৭ করে ফেরার পর আর পেরে ওঠেনি তারা। ১৭ রানের জয়ে সুপার টুয়েলভের দুয়ারে স্কটল্যান্ড।

নবাগত পিএনজির বিপক্ষে ২৬ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়েছিল স্কটল্যান্ড। তখনই শক্ত হাতে হালটা ধরেন রিচি বেরিংটন ও ম্যাথু ক্রস। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ৯২ রানের জুটি গড়ে দেয় বড় স্কোরের ভিত। ৩৬ বলে ৪৫ করা ক্রসকে ফিরিয়ে জুটিটা ভাঙেন সাইমন আটাই। অন্য প্রান্তে বেরিংটন তখনো অবিচল। ৪৯ বলে ৬ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৭০ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা তাঁরই। বেরিংটনের ৩ ছক্কার একটি ছিল ৯৭ মিটার, যা এই টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম। চাদ সোপারের বলে চার্লস আমিনির তালুবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি। একটা সময় ১৯০ রানের সম্ভাবনা জাগলেও স্কটিশরা থামে ৯ উইকেটে ১৬৫-তে। শেষ ২ ওভারে ১৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে স্কটল্যান্ড। কাবুয়া মোরিয়া ৩১ রানে ৪ এবং চাদ সোপার ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট। ১৬৫ রান অবশ্য বিশ্বকাপে স্কটিশদের সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৫৬।

জবাবে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাপুয়া নিউ গিনি। ১৬৬ রানের লক্ষ্যটা তখন এভারেস্ট সমান। পথ হারিয়ে বসা দলকে কক্ষে ফিরিয়েছিলেন নরমান ভানুয়া ও সেসে বাউ। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৩ বলে ৩২ রানের জুটি দুজনের। বাংলাদেশ বধের নায়ক ক্রিস গ্রিভসের বলে ২৪ রানে বাউ ফিরলে ভাঙে জুটিটা। অন্য প্রান্তে নরমানের দৃঢ়তায় শেষ ৫ ওভারে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬২। আর শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৪। সেটা না পারলেও সাহসী ব্যাটিংয়ে প্রশংসা পাওয়ার মতোই খেলেছে নবাগত পাপুয়া নিউ গিনি। জশ ডেভি ১৮ রানে নেন ৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।



সাতদিনের সেরা