kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

নুসরাতকে তলব করেছে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুসরাতকে তলব করেছে পিবিআই

মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় মামলার তদন্তে নানা অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রথম ও দ্বিতীয় মামলার বাদী একই হলেও দুটি মামলার এজাহারে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। দুই এজাহারে বাদীর বক্তব্যে ভিন্নতার কারণ জানতে এবার বাদীকেই তলব করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একাধিক সূত্র মনে করছে, নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মামলার অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো মামলা করতে গেলে প্রথম যে অভিযোগটি করা হয় সেটি গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে সেই অভিযোগ থেকে সরে আসার কোনো পথ নেই। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে নুসরাত প্রথম দফায় যে অভিযোগগুলো করেছিলেন দ্বিতীয় দফায় অন্য রকমভাবে মামলাটি সাজিয়েছেন। এটা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পিবিআই সূত্র বলছে, ৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মামলা দায়েরের পর আদালত তদন্তভার পিবিআইকে দেন। এর তিন দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ একটি দল কুমিল্লায় গিয়ে বাদীর সঙ্গে কথা বলে। তবে পরবর্তী সময়ে ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হলে বাদীকে পুনরায় তলবের সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, ‘দেখুন আমরা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সব কিছুই খতিয়ে দেখব। ’

জানা গেছে, নুসরাত প্রথম অভিযোগ করেছিলেন গুলশান থানায়। সেই অভিযোগে তিনি মুনিয়ার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং আত্মহত্যা ও প্ররোচনা মামলা করেছিলেন। নুসরাত দ্বিতীয় অভিযোগটি করেন ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। এই মামলায় তিনি মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। দুটি মামলার যে অভিযোগনামা, সেই অভিযোগনামার মধ্যে অসংগতি রয়েছে এবং একটি মামলার সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই।

একাধিক সূত্র বলছে, শুধু প্রথম মামলাটি নয়, দুটি অভিযোগের মধ্যে অসংগতি থেকে বোঝা যায়, এই মামলা করা হয়েছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং এক ধরনের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জন্য।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যে মামলায় অভিযোগ করেছেন, সেখানে তিনটি অসংগতি রয়েছে।

১. এজাহারে বলা হয়েছে যে মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু মুনিয়াকে কখন, কিভাবে হত্যা করা হলো, সেটি নেই। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের মামলায় সময় ও ঘটনাস্থল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আসামিদের কাউকে না কাউকে অবশ্যই সেই হত্যাকাণ্ডের স্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এটি এই মামলার সবচেয়ে বড় ত্রুটি বলে মনে করছে একাধিক সূত্র।

২. মুনিয়া যখন নুসরাতকে টেলিফোন করেন এবং নুসরাত যখন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন, তখন তাঁদের টেলি-আলাপে একবারও মুনিয়া মৃত্যুর আশঙ্কা করেননি বা তাঁকে হত্যা করা হতে পারে—এ রকম আশঙ্কা করেননি। বরং মুনিয়া কিছুদিন নির্বিঘ্নে ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চেয়েছিলেন।

৩. মৃত্যুর আগে ব্যক্তির যেসব কথাবার্তা সেটিকে বলা হয় তার লাস্ট স্টেটমেন্ট বা শেষ বক্তব্যে। সেই শেষ বক্তব্যে মুনিয়া কোথাও নিজেকে ধর্ষিতা বলে দাবি করেননি। কাজেই এই তিনটি অসংগতির বিষয় নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।  

সূত্র বলছে, মামলার তদন্তে এরই মধ্যে পিবিআই অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গুলশানের যে ফ্ল্যাটে ২৮ এপ্রিল মুনিয়া মারা গিয়েছিলেন, সেই ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়া হয়েছে। মুনিয়ার ডায়েরি এবং অন্য কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মুনিয়ার ফোনের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে।

 

 



সাতদিনের সেরা