kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতিসংঘের অধিবেশন

প্রতিশ্রুতিশীল খাতে বিনিয়োগ করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রতিশ্রুতিশীল খাতে বিনিয়োগ করুন

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন ও হাই-টেক পার্কের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার ভোরে নিউ ইয়র্কে (নিউ ইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বিকেলে) এক ব্যাবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কের ‘লোট নিউ ইয়র্ক প্যালেস’ হোটেল থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ‘বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড : দ্য ফ্রন্টিয়ার ফর  গ্রোথ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল গোলটেবিল বৈঠক পরিচালনা করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারাও এতে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমান বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে আরো উচ্চ পরিসরে উন্নীত করতে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি, ব্যাংকিং ও বীমা খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে অবশ্যই বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। এগুলো ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) সুবিধা দিতে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নয়ন ঘটাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি অবস্থান থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি ভিত্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রয়োজন হবে।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যরা এবং ইউএস অ্যান্ড বাংলাদেশ বিজনেস ওয়ার্ল্ডের নেতারা এই গোলটেবিলে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ও এর সভাপতি নিশা বিসওয়ালকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির অন্যতম প্রথম কাজ ছিল বাংলাদেশে কভিড-১৯ ওষুধ ও সরঞ্জামাদির চালান পাঠানো।

নারী নেত্রীদের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর : লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতাদের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্কে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে তিন দফা প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যেক পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন এবং আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি।’

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় ও শেষ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার জন্য আমাদের সাধারণ কর্মসূচিকে  জোরদার করতে নেতাদের একটি সম্মেলন ডাকার আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবার রাতে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লফভেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ডারবান ঘোষণার ২০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, হোয়াইট হাউস কভিড-১৯ শীর্ষ সম্মেলন এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন।

খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাওয়ার আশা : নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত দেবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনব বলে আশা করছি।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বিএনপি ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশে জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়ে অসৎ উদ্দেশে তারা বিদেশে অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হবে।



সাতদিনের সেরা