kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভারত থেকে টিকা আসছে শিগগিরই

অক্টোবরে রপ্তানি শুরু

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত থেকে টিকা আসছে শিগগিরই

শিগগিরই ভারত থেকে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) টিকা বাংলাদেশে আসছে। ছয় মাস বিরতির পর আগামী মাস (অক্টোবর) থেকে ভারত টিকা রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে টিকা রপ্তানি শুরুর ঘোষণা দেন। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোই অগ্রাধিকার পাবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী গতকাল সন্ধ্যায় এক বার্তায় সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতে চলমান টিকাদান কর্মসূচি ও উৎপাদন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারত অন্য দেশগুলোকে সহযোগিতা করবে এবং কোভ্যাক্সের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পূরণ করবে। তিনি এ ক্ষেত্রে ‘প্রতিবেশীরাই (প্রতিবেশী দেশগুলোই) প্রথম’ টিকা পাবে বলে সুনির্দিষ্ট করেছেন।”

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘শিগগিরই যৌক্তিক পরিমাণে টিকা রপ্তানি শুরু হবে। বাংলাদেশের মতো অগ্রাধিকারের দেশগুলো প্রথম দিকেই টিকা পাবে।’

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারত গত এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকাদান পরিকল্পনায়।

করোনা মোকাবেলায় তিন কোটি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনতে বাংলাদেশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আলোকে ভারত থেকে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৭০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এ দেশে এসেছিল। তবে চুক্তির আওতায় দুই কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকা ভারতের কাছ থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। ওই চুক্তির বাইরে ভারত তিন দফায় বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের ৯৫টি দেশকে উপহার ও রপ্তানি হিসেবে ছয় কোটি ৬৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে এক কোটি তিন লাখ ডোজ, যা বিশ্বে ভারতের মোট উপহার ও রপ্তানির ছয় ভাগের এক ভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারত গত এপ্রিলে টিকা রপ্তানি বন্ধের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ওই দেশটির প্রতিনিধিদের প্রায় প্রতিটি বৈঠকেই টিকার প্রসঙ্গ এসেছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে অক্টোবর থেকেই ভারতের টিকা রপ্তানি শুরুর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।

গত এপ্রিল থেকে কয়েক মাস ভারতে করোনা পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। ওই সময় নিজ দেশের জনগণকে টিকা না দিয়ে বাইরে রপ্তানি ও উপহার পাঠানো সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি ছিল। আবার ওই টিকার কাঁচামালেরও ছিল ঘাটতি। ভারত যখন টিকা দিতে পারছিল না তখন তার মিত্র দেশগুলো থেকে যেন বাংলাদেশ টিকা পায়, সে জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ আরো কিছু দেশ সরাসরি বা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে উপহার হিসেবে টিকা পাঠিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গেও টিকা কেনার চুক্তি করেছে। চীন থেকেও বাণিজ্যিক চালানের পাশাপাশি উপহার হিসেবেও টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত টিকা রপ্তানি শুরু করলে বাংলাদেশে টিকাদান পরিকল্পনা আরো গতি পাবে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা