kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জেএসসি পরীক্ষার সুযোগ নেই!

► ১০ নভেম্বর এসএসসি এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি শুরুর প্রস্তাব
► পিইসি ও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা

শরীফুল আলম সুমন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেএসসি পরীক্ষার সুযোগ নেই!

প্রতিবছর ডিসেম্বরের শুরুতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হয়। তবে করোনা মহামারিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২০ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। গেল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলায় এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

শুধু জেএসসি-জেডিসিই নয়, এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করতে পারবে কি না বা বছরের শেষ দিকে পরীক্ষা নেওয়া কতটুকু সম্ভব হবে সে ব্যাপারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া অষ্টম ও নবম শ্রেণির সপ্তাহে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির সপ্তাহে এক দিন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তাই তাদেরও পরীক্ষা নেওয়াটা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

সূত্র জানায়, ১০ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছে আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করতে চায় শিক্ষা বোর্ডগুলো।

জানা যায়, ১০ বা ১১ নভেম্বর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করলে পরীক্ষা শেষ করতে ওই মাস পুরোটাই লেগে যাবে। কারণ এবার এসএসসিতে শুধু ঐচ্ছিক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলেও ১২টি বিষয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। আর এইচএসসি ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হলে ওই মাসের শেষ নাগাদ পরীক্ষা শেষ হবে। তাদের ঐচ্ছিক বিষয় এসএসসির চেয়ে বেশি। ফলে নভেম্বর বা ডিসেম্বরে জেএসসি বা জেডিসির মতো কোনো পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর। আবার বোর্ডগুলোও একসঙ্গে দুই ধরনের পরীক্ষা নিতে পারবে না। ফলে এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা এ সময় বা এর দুই-এক দিন আগে-পরে যখনই পরীক্ষা শুরু করতে বলবে সেদিন থেকেই আমরা রুটিন তৈরি করব। পরীক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

জেএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘জেএসসি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নয়। তবে এটা নেওয়া হয় সরকারের নির্বাহী আদেশে। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হয় বলে অনেকটা পাবলিক পরীক্ষার আদলে হয়। প্রতিবছর এই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি।’

জানা যায়, এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। আর এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ চলছে। এরই মধ্যে ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় ক্ষেত্রেই গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। অর্থাৎ এইচএসসিতে যদি কোনো শিক্ষার্থীর নৈর্বাচনিক বিষয় পদার্থ, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত থাকে, তাহলে তাকে এই তিন বিষয়ের ছয়টি পত্রে পরীক্ষা দিতে হবে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টায়। রচনামূলক অংশে নম্বর থাকবে ৩৫ আর এমসিকিউতে থাকবে ১৫ নম্বর। তবে প্রশ্নপত্র এখন যেভাবে হয়, সেভাবেই হবে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বাছাই করার ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ থাকবে। যেমন আগে যেখানে ১০টি প্রশ্নের মধ্য থেকে আটটির উত্তর দিতে হতো, সেখানে এখন সেই ১০টি প্রশ্নই থাকবে। তবে তার মধ্যে চারটির উত্তর দিতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে। আর প্রতি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের বদলে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। তবে ৫০ নম্বরকে ১০০-তে রূপান্তর করে পরীক্ষার ফল দেওয়া হবে।

এবার আবশ্যিক বিষয় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, আইসিটি, ধর্ম এবং চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসব বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হবে। এসএসসির ক্ষেত্রে জেএসসি, এইচএসসির ক্ষেত্রে জেএসসি ও এসএসসির ফল মূল্যায়ন করা হবে। এসএসসিতে (ভোকেশনাল) জেএসসি ও নবম শ্রেণি এবং এইচএসসিতে (ভোকেশনাল) এসএসসি ও একাদশের ফল মূল্যায়ন করা হবে।



সাতদিনের সেরা