kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়নি যুক্তরাষ্ট্র

মাইকেল সি ড্যাশ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়নি যুক্তরাষ্ট্র

তালেবান ক্ষমতায় ফিরলেও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়নি বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকেল সি ড্যাশ। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার নটর ডেম ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড্যাশের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান 

 

কালের কণ্ঠ : ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে সায়গন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পালানোকে এ বছরের আগস্ট মাসে কাবুল থেকে আমেরিকানদের ফিরে যাওয়ার তুলনা করা হচ্ছে। আসলে সাদৃশ্য কতটা?

মাইকেল ড্যাশ : সায়গন ও কাবুল থেকে আমেরিকানদের ফেরার ছবিগুলো একই ধরনের। দুটি ঘটনায়ই সাধারণভাবে জনমনে ধারণা জন্মেছে যে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকের প্রতীকী ছবি যেন আফগানিস্তানের কাবুলে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সায়গনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স অফিসের ছাদে একটি আমেরিকান হেলিকপ্টার অবতরণ করেছিল। সিআইএ কর্মকর্তারা লাইন ধরে থাকা উত্তর ভিয়েতনামের লোকদের পালানোর পথ দেখাচ্ছিলেন। হেলিকপ্টারে করে পালানোই ছিল তাদের শেষ আশা। কারণ ভিয়েত কং জোট ততক্ষণে হো চি মিন সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে। আর এবার কাবুলেও একই ছবি। তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। আমেরিকান ও তাদের মিত্র আফগানরা দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বিমানবন্দরে ছুটছে। আমেরিকান সেনারা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সই করেছে, সেই চুক্তি কি তালেবানকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া নয়?

মাইকেল ড্যাশ : হ্যাঁ, আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। আমাদের সামনে অনেক তথ্য-প্রমাণ আছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তালেবান ২০০১ বা ২০০২ সালের শুরুর দিকেই আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে চুক্তি করতে চেয়েছিল। তালেবানকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আরো অনেক আগেই আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল সেখানে আল-কায়েদা ও তাদের আশ্রয়দাতা নির্মূলের জন্য। ওই অভিযানে আশ্রয়দাতা তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়।  সারা জীবন সেখানে আমাদের সেনারা থাকতে পারে না। তালেবান আবারও আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আখড়া বানাতে পারে, কিন্তু তার পরও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী রাখার প্রয়োজন নেই।

 

কালের কণ্ঠ : আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে? ২০ বছর পর তালেবান আবার ক্ষমতায়। যুক্তরাষ্ট্র কি আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়েছে?

মাইকেল ড্যাশ : না, আমরা ব্যর্থ হইনি। আমরা যৌক্তিক কিছু অর্জন দেখাতে পারি। এখন আফগানিস্তানে কোনো আল-কায়েদা বা আইএসের উপস্থিতি নেই। আর যে আফগানরা আফগানিস্তান ছাড়তে চাচ্ছে, তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে সত্যিকার অর্থে প্রভাবিত করে, এমন ইস্যুগুলো আরো ভালোভাবে মোকাবেলার সুযোগ পাব।

 

কালের কণ্ঠ : আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের কী প্রভাব আঞ্চলিক, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশের ওপর পড়বে?

মাইকেল ড্যাশ : তালেবানের ক্ষমতায় পাকিস্তানের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ বাড়বে।

আজ যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের স্ট্র্যাটেজিক আগ্রাসন মোকাবেলার পাশাপাশি আঞ্চলিক উপদ্রব হিসেবে বিরক্তিকর রাশিয়ার পুনরুত্থান এবং সমকক্ষ প্রতিযোগী হিসেবে চীনের উত্থান মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কোনো সন্দেহ নেই যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ফেরার পর সেখানে পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খল হবে। ধর্মের নামে তালেবানের মধ্যযুগীয় কায়দায় শাসন বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য হবে ভয়ংকর।

 

কালের কণ্ঠ : অনেক বিশ্লেষক বলছেন, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে দৃশ্যত পাকিস্তান লাভবান হয়েছে, নাখোশ হয়েছে ভারত। আপনিও কি তাই মনে করেন?

মাইকেল ড্যাশ : আমার মনে হয়, আফগানিস্তান নিয়ে ভারত, পাকিস্তান—দুই দেশই নাখোশ হবে। আজ ভারত নাখোশ। আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানেরও নাখোশ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

 



সাতদিনের সেরা