kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

বিশেষজ্ঞ মত

জ্বর হলে করোনা ডেঙ্গু টেস্ট করুন

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জ্বর হলে করোনা ডেঙ্গু টেস্ট করুন

ডেঙ্গু হলে প্রচণ্ড জ্বর হয়। পেট-কোমর-মাথাসহ শরীরে গিরায় গিরায় ব্যথা হয়। চোখের পেছনে ব্যথা হয়।

এটাকে ‘ব্রেক বোন ফিবার’ অর্থাৎ হাড়ভাঙা ব্যথা বলে। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বরের চার-পাঁচ দিন পর সারা শরীরে র‌্যাশ উঠতে পারে, লাল এলার্জির মতো। প্লাটিলেট কমে রক্তক্ষরণ হতে পারে। নাকে, দাঁতের গোড়ায়, বমির সঙ্গে রক্ত দেখা দিতে পারে। জ্বর হওয়ার দু-এক দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে পজিটিভ আসে। তবে রক্তক্ষরণ হলে আমরা বলি ‘হ্যামোরোজিক ফিবার’। এটা রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডেঙ্গু পজিটিভ আসার চার-পাঁচ দিন পর রক্তের পরীক্ষা (সিবিসি) করতে হয়। এটার মাধ্যমে দেখতে হয় রোগীর প্লাটিলেট কমে কি না। প্লাটিলেট বেশি কমতে থাকলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে, তখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

ডেঙ্গুতে জ্বর-ব্যথা যেকোনো সমস্যায় প্যারাসিটামলের বাইরে অন্য কোনো ওষুধ খাবেন না। পাশাপাশি পানি-শরবত এগুলো খেতে হবে। অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। তাতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জ্বর-সর্দিকাশি-গলাব্যথা হলে ডেঙ্গু-করোনা দুটিরই পরীক্ষা করাতে হবে। ওষুধ-পরীক্ষা সব কিছুই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে। অবহেলা করা যাবে না। শুরুতেই সতর্ক হতে হবে।

করোনা মহামারির মধ্যে নতুন করে ডেঙ্গুর তাণ্ডব শুরু হয়েছে। সারা পৃথিবীসহ বাংলাদেশের মানুষ করোনা তাণ্ডবে বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত। কিছুদিন ধরে ডেঙ্গুর প্রবণতাও বেড়ে গেছে। এপ্রিল-মে থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সময়। এটা প্রতিবছর হয়েই থাকে, ২০১৯ সালের অভিজ্ঞতাও আমাদের আছে। কিন্তু এই বছর হঠাৎ করে ডেঙ্গু খুব বেশি বেড়ে গেছে। এটা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। জমা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। আর এই মশা সবই ডেঙ্গুবাহিত এডিস মশা হয়। এ ছাড়া বৃষ্টির জমা পানি থেকে লার্ভা হয়ে এডিস মশা হয়। এভাবেই ডেঙ্গু মশা বেড়ে যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে ঢুকছে। ডেঙ্গু মশাকে গৃহপালিত মশাও বলে। কারণ এই মশা বাসাবাড়িতে থাকতে পছন্দ করে। এ জন্য কেউ কেউ ভদ্র মশাও বলে।

বাথরুমে, ফুলের টবে, বালতিতে, চৌবাচ্চায় এবং ঘরের আনাচকানাচে পানি থাকলে মশা ডিম পাড়ে। এ জন্য সব মানুষকে সতর্ক হতে হবে। ঘরবাড়ির আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জমা পানি না থাকে। ঘরের আনাচকানাচ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফ্রিজের নিচে-টবে পানি যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে ছাদবাগান করে, সেখানে পানি জমার সম্ভাবনা থাকে। সেখানে সতর্কতার সঙ্গে পানি পরিষ্কার করতে হবে। আর নিজেকে সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইউজিসি অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক



সাতদিনের সেরা