kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রী বললেন

জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণেই উন্নতি বাংলাদেশের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণেই উন্নতি বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলায় জাতির পিতার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন পূরণ করাটাই একটা দায়িত্ব এবং সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নতি।’

প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় নির্মিত ফ্ল্যাট এবং বস্তিবাসীর জন্য মিরপুরে নির্মিত স্বল্প ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন, মালিবাগ ও মতিঝিলে দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাটসংবলিত পাঁচটি আবাসন প্রকল্প এবং বস্তিবাসীর জন্য মিরপুরে নির্মিত ৩০০টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মাদারীপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্মিত সমন্বিত অফিস ভবনও উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল আনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন পূরণ করাটাই একটা দায়িত্ব এবং সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নতি। কারণ তিনি যেভাবে চিন্তা করেছেন তার থেকে ভালো চিন্তা আর কেউ করতে পারে না। আমি তাঁর বড় মেয়ে হিসেবে সব সময় তাঁর কাছ থেকে এ কথা শুনেছি। তিনি জানিয়েছেন কিভাবে বাংলাদেশকে সাজাতে চান।’

শেখ হাসিনা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই আগস্ট মাসে বস্তির মানুষগুলো যে থাকার একটা সুন্দর জায়গা পাবে এটিই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, যে দেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবে। আমরা মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি।’

‘কিন্তু আমি জানি জাতির পিতা বেঁচে থাকলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উন্নত হতো। কাজেই সেই কাজটাই আমরা এখন করে যাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মাঝে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।

জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে ভূমিহীনদের ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর একটা রাষ্ট্রের জন্য কম সময়। তখন তো একটা প্রদেশ ছিল, সেটা দেশে উন্নীত করা এবং তা গড়ে তোলা, এটা তিনি করে গেছেন। কিছু বেইমান-মুনাফেকের জন্য তাঁর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা সব সময় একটি কথাই বলতেন, ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলাদেশের মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, তারা উন্নত জীবনের অধিকারী হবে।’” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশের মানুষ রোগে-শোকে জর্জরিত, শিক্ষার আলো বঞ্চিত ছিল। তাদের ভাগ্যোন্নয়ন করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর মূল লক্ষ্য। এ জন্য ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংগ্রাম করেছেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি থেকে তিনি ধাপে ধাপে জাতিকে মুক্ত ও স্বাধীন করেছেন। আর এই আন্দোলন-সংগ্রামের জন্যই তাঁকে জেলে নিয়েছে, নির্যাতন করেছে, হত্যা করতে চেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা প্রত্যেকটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করেন। জেলা গভর্নর নিয়োগ দেন, যাতে প্রত্যেকটি জায়গা পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু ’৭৫-এর পর এই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ফেলা হয়।’

সকলের জন্য সুষ্ঠু আবাসন নিশ্চিত করতে এবং এক ছাদের নিচে সরকারি সব সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স করে দিয়েছি। যাতে এক জায়গা থেকে সব সেবা পাওয়া যায়। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন করে দিয়েছি। এখন মাদারীপুর জেলায় কমপ্লেক্স করে দিলাম। এক ছাদের নিচে সব সরকারি সেবা পাবে মানুষ। সব জেলা ও উপজেলায় কমপ্লেক্স করে দেব। অফিসারদের থাকার জন্যও ফ্ল্যাট করে দেব।’

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সময় দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফেরায় তত্কালীন সামরিক জান্তার নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে এক রকম জোর করেই দেশে ফেরার স্মৃতিচারণা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তখন আমি দেখেছিলাম হাজার হাজার মানুষ। যাওয়ার সময় যে পরিবারের সদস্যরা ছিল তারা কেউ ছিল না। কিন্তু হাজারে হাজারে সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ পেয়েছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা ক্ষমতায় এবং একটাই চিন্তা, সেটা হলো, একেবারে তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তাদের জীবনমান উন্নত করা এবং তাদের সুস্থ ও উন্নত জীবন দেওয়া। যে মৌলিক চাহিদার কথা সংবিধানে বলা আছে তা পূরণ করা।’

যে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে তাঁর কাজ তাঁদের জীবনমান উন্নত করাকেও কর্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাদের নিয়ে আমরা কাজ করব, তাঁদের ভালো-মন্দও তো দেখতে হবে। কাজেই আমি সরকার গঠন করে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সকলকে ফ্ল্যাট করে দেব। সুন্দর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেব, যাতে কর্মকর্তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অনেক বস্তি, গ্রামের ঘর-বাড়ি ছেড়ে এই বস্তিজীবনের কারণ অনুসন্ধানে তিনি ’৯৬-পরবর্তী সরকারে এসে বস্তিবাসীর অনেক ছেলে-মেয়েকে গণভবনে ডেকে এনে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং বস্তিবাসী যারা ফিরে যেতে চায় তাদের জন্য ঘরে ফেরার কর্মসূচি নেন।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে এবং ’৮১ সালে দেশে ফেরার পর সকল গণ-আন্দোলনে রাজপথে থাকার সময় কাছ থেকে দেখা বস্তিবাসীর অস্বাস্থ্যকর মানবেতর জীবন তাঁকে ব্যথিত করেছে। শহরে দৈনন্দিন প্রয়োজন, নির্মাণকাজসহ আরো নানা কাজে ভাসমান লোকজনদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তারা কেন সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ পাবে না।

যে কারণে ১৯৯৬ সাল-পরবর্তী সরকারে এসেই হরিজন ও দলিত শ্রেণির জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের বস্তিবাসীর জন্য ভাসানটেকে ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু করেন, যা পরবর্তী বিএনপি সরকার এসে লুটপাট করে খায়। ফলে ২০০৯ সালে সরকারে এসে আবার নতুনভাবে সেই কাজ শুরু করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ৩০০ পরিবারকে ৩০০ ফ্ল্যাট দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ফ্ল্যাট দেব। তবে বস্তিতে যেমন ভাড়া দিয়ে থাকেন তেমনি ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে। সেটা মাসিক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক—যার যেমন সুুবিধা সেভাবে হতে পারে। আর কেউ গ্রামে যেতে চাইলে সে ব্যবস্থাও করব। গ্রামে ঘরবাড়ি করে দেব। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং ছয় মাসের খাবারও বিনা মূল্যে পাবেন।’

এ সময় তিনি বলেন, পূর্বাচলে যাদের জমির মালিকানা ছিল, তাদের একটা করে প্লট করে দেওয়ার কথা ছিল। সেটা কেউ করেনি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নামমাত্র মূল্যে তাদের প্লটগুলো দিয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকের একটা ঠিকানা হবে এবং যারা বস্তিতে বসবাস করছে তাদের জন্যও একটি সুষ্ঠু আবাসন ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’ সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা