kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

তিন হাসপাতালে ১০০ মৃত্যুর তথ্য গোপন

উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে অনুমোদন ছাড়াই করোনা রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসার প্রমাণ পেয়েছে তদন্তদল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন হাসপাতালে ১০০ মৃত্যুর তথ্য গোপন

রাজধানীর উত্তরার গরীবে নেওয়াজ এভিনিউয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে কভিড-১৯ চিকিৎসার অনুমোদন না থাকলেও সেখানে রোগী ভর্তির প্রমাণ মিলেছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, ভেন্টিলেটর ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ছাড়াই কভিড রোগীদের জন্য আইসিইউ ইউনিট চালানো হচ্ছে। কভিড আক্রান্ত রোগীদের তথ্য গোপন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ না করে ইচ্ছামতো বিল আদায় করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তদল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে এসব তথ্য পেয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুলাই এই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সবুজ পিরিস (৩০) নামের এক করোনা রোগী চিকিৎসায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ হয়ে ছুরি নিয়ে নার্স-বয়দের ওপর হামলা চালান। এর জেরে মুমূর্ষু ওই রোগীকে পেটানো হয়; চিকিৎসা না দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ১০ ঘণ্টা। পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুলাই মারা যান সবুজ। এ ঘটনা তুলে ধরে গত শুক্রবার দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘খোদ রাজধানীতে এখনো এমন হাসপাতাল!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল ‘বেসরকারি কভিড-১৯ হাসপাতাল মনিটরিং কমিটি’র তদন্তদল উত্তরায় ‘রেডিক্যাল হাসপাতাল’ এবং ‘আল আশরাফ হাসপাতাল’ পরিদর্শন করে একই রকম চিত্র দেখেছে। তিনটি হাসপাতালে এরই মধ্যে ১০০ করোনা রোগীর মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে হাসপাতালগুলো কৌশলে কোথাও রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করেনি। আজ রবিবার তদন্তদল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

১৭ জুলাই করোনায় আক্রান্ত সবুজ শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁকে ৮০ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ইনজেকশনও দেওয়া হয়। ২২ জুলাই আইসিইউতে মিতু রেখা, ইমনা আফরোজা ও ওয়ার্ড বয় সাগরকে ছুরিকাঘাত করেন রোগী সবুজ। এরপর তাঁকে পিটিয়ে নির্মমভাবে আটকে রাখা হয়। পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৬ জুলাই তিনি মারা যান। সবুজের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করে। তাঁর মৃত্যুর পর শ্বশুর জ্যোতি কস্তা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

সবুজের স্বজনরা বলছেন, উচ্চমাত্রার ইনজেকশনের প্রভাবে সবুজ অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। তবে হাসপাতালের লোকজনের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জ্যোতি কস্তা দাবি করেন, তাঁরা আগে জানতেন না শিন শিন জাপান হাসপাতালের কভিড চিকিৎসার অনুমোদন নেই। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ড. ফরিদ উদ্দিন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে হাসপাতালটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

সূত্র জানায়, ‘বেসরকারি কভিড-১৯ হাসপাতাল মনিটরিং কমিটি’ উত্তরায় শিন শিন জাপান ছাড়াও দুই হাসপাতালে করোনা রোগী রেখে অনিয়মের মধ্যে চিকিৎসা দেওয়ার তথ্য পায়। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রেডিক্যাল হাসপাতাল, আল আশরাফ হাসপাতাল ও শিন শিন জাপান হাসপাতাল পরিদর্শন করে ছয় ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্তদল। কভিড চিকিৎসার অনুমোদন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, ভেন্টিলেটর ও হাই ফো ন্যাজাল ক্যানুলা ছাড়াই কভিড রোগীদের জন্য আইসিইউ ইউনিট পরিচালনা করা হয়। আইসিইউ সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্স ছাড়াই আইসিইউ ইউনিট চালাচ্ছে তারা। কভিড রোগীদের তথ্য গোপন করে চিকিৎসা দিচ্ছে তিন হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান ব্যতিরেকেই মাত্রাতিরিক্ত বিল আদায় করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসরণ না করেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কভিড সেলে করোনায় মৃতদের কোনো তথ্য দেয়নি তিনটি হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে অন্তত ১০০ করোনা রোগী মারা গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশসহ আজ পরিদর্শন প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।



সাতদিনের সেরা