kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অক্সিজেনসংকট

ফের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় সংসদে উত্তাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় সংসদে উত্তাপ

হাসপাতালে অক্সিজেনসংকটের ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে আবারও বিরোধী দলের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় অক্সিজেনসংকটের কারণে করোনা রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধী দলের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্য অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় সরব হন। ওই সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধিবেশনকক্ষে ছিলেন না।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত করেন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) সিরাজ। তিনি বলেন, বগুড়া এখন কভিডের হটস্পট। গত তিন দিনে সেখানে ২৪ জন মারা গেছে। সেখানে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই। জেলার তিনটি কভিড হাসপাতালে করোনা রোগীতে ঠাসা। তাই জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিরোধী দলের উপনেতা জাতীয় পার্টির জি এম কাদের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দিলেও শুরুতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন। জি এম কাদের বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ছয়-সাতবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। মন্ত্রীর সহকারীদের ফোন করার পর মন্ত্রীকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু মন্ত্রী ফোন করেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো। এর পরও তারা নাজেহাল হয়েছে। আমাদের দেশে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সেভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো সেখানেই আছে। কোনো উন্নতি হয়নি।’ নিজ এলাকার হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য যেসব চিঠি দিয়েছেন, সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো পুনরায় উল্লেখ করে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন জি এম কাদের।

অক্সিজেনসংকটের কথা তুলে ধরে একই দলের কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে সাতজন কভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছে। হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে, কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। বেশির ভাগ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব দিচ্ছি।’ কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দিলে, অর্থ দিলে আমরা সব কিছু ঠিক করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর নয়, দায়িত্ব আমলাদের ওপর। তাঁরা তো দুই দিন পরে চলে যান। তাঁদের জবাবদিহি নেই।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী মানুষ, বুঝলাম না। উনার লজ্জা-শরম কিছু নেই। এই মুহূর্তে উনার রিজাইন দেওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। অথচ আজ খবর আসছে, দেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে পাঁচজন রোগী অক্সিজেন পায় তো ২০ জন লাইনে থাকে। শুধু অক্সিজেনের কারণে অনেকে ছটফট করে মারা যাচ্ছে। পত্রিকায় এত লেখালেখি হচ্ছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি একটি হাসপাতালে গিয়ে এগুলো দেখেছেন? তিনি জুম মিটিং করেন।’

গত বুধবার সংসদে দেওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সদর হাসপাতালে চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের ওপর বর্তায়। ওনার বক্তব্যে মনে হচ্ছে, কোনো এমপিই দায়িত্ব পালন করেন না। এখানে ৯০ শতাংশ এমপি সরকারি দলের। এই বক্তব্য আপত্তিজনক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোটা হাউসকে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া দরকার।’

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, “সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু ‘এটি সত্য নয়’ বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। এ জন্য আজ আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার উচিত তদন্ত করা।”



সাতদিনের সেরা