kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

অর্থ বিল ২০২১ পাস

পুঁজিবাজার ও আবাসনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুঁজিবাজার ও আবাসনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বহাল

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সমালোচনার মুখেও ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠতে পুঁজিবাজার, আবাসন ও শিল্প খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রাখলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই সুবিধা রেখে গতকাল মঙ্গলবার আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) জন্য অর্থ বিল-২১ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

চলতি অর্থবছরেও কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ ছিল। নতুন অর্থ বিলে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগ অব্যাহত রাখা হলেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারসহ বেশ কয়েকটি খাতে কালো টাকা হিসেবে অধিক পরিচিত ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার অবাধ সুযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রস্তাবিত অর্থ বিলেও তখন এই বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ চলতি অর্থবছরেই শেষ হচ্ছে বলে আলোচনা তৈরি হয়। কিন্তু সব আলোচনার অবসান ঘটিয়ে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অর্থমন্ত্রী চলতি বছরের চেয়ে জরিমানা ও শর্ত বাড়িয়ে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ দিয়ে অর্থ বিল চূড়ান্ত করেন।

আগামী অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখতে অর্থ বিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে রক্ষিত নগদ অর্থ ও আমানত আয়কর রিটার্নে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নিয়মিত করের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে, যা চলতি বাজেটে ছিল ১০ শতাংশ।

আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট বা প্লটের বর্গমিটারপ্রতি নির্ধারিত কর দিতে হবে। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া সুযোগ নিয়ে আগামী অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর দিয়ে দেশের যেকোনো উৎপাদনশীল শিল্প খাতে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। এই বিনিয়োগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সরকারের অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন করতে পারবে না।

আগামী অর্থবছরে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করতে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করে এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও দুদক বা অন্য কোনো সংস্থা কালো টাকার উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। চলতি বছর পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ১০ শতাংশ কর ধার্য আছে।

আবাসন খাত : করোনায় অর্থনীতির স্থবিরতার কারণে ধস নেমেছে আবাসন খাতেও। ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকলেও বিক্রি করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। আবাসন খাতে গতি আনতে আগামী অর্থবছরের জন্য কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রেখে এলাকাভেদে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কালো টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে হলে নির্ধারিত এই কর পরিশোধ করে জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত আরো ৫ শতাংশ কর দিতে হবে।

আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি  আলমগীর শামসুল আলামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিনা বাধায় কালো টাকা বিনিয়েগের সুযোগ দেওয়ায় আবাসন খাতে গতি আসবে। তবে করের পরিমাণ কমালে ভালো হতো।’

অর্থ বিল ২০২১-এ গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা এবং দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

রাজধানীর ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জের জমি এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় প্রতি বর্গমিটারে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। এসব এলাকা বাদে যেকোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে। পৌরসভা বা যেকোনো জেলা সদর এলাকায় জমি কিনতে কর দিতে হবে প্রতি বর্গমিটারে এক হাজার ৫০০ টাকা। এসব এলাকা ব্যতীত অন্য অঞ্চলে জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে দিতে হবে ৫০০ টাকা কর।

গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের বেশি না এমন আয়তনের ভবন বা অ্যাপাটমেন্ট কিনতে হলে প্রতি বর্গমিটারে চার হাজার টাকা কর দিতে হবে। গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন ২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারে ছয় হাজার টাকা কর দিতে হবে।

ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, মহাখালী ডিওএইচএস, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট ২০০ বর্গমিটারের বেশি নয় এমন হলে প্রতি বর্গমিটারে তিন হাজার টাকা কর দিতে হবে।

যেকোনো জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের আকার  ১২০ বর্গমিটারের বেশি না হলে প্রতি বর্গমিটারে ৩০০ টাকা কর দিতে হবে। এর বেশি কিন্তু ২০০ বর্গমিটারের কম হলে কর দিতে হবে প্রতি বর্গমিটারে ৫৫০ টাকা। আর ২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারে কর দিতে হবে ৬০০ টাকা হারে।