kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

আরো ৫৩ হাজার পরিবারকে ঘর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ে ফের গণটিকা কার্যক্রম শুরুর আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো ৫৩ হাজার পরিবারকে ঘর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গত জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে একসঙ্গে আরো প্রায় ৫৩ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রবিবার ভিডিও কনফারেন্সে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পরিবারকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিনা মূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমি পাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, কভিড-১৯-এর টিকা পেতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। সরকার আশা করছে, আগামী মাস থেকে আবার গণটিকা দেওয়া শুরু করা যাবে। টিকার জন্য সরকার বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আগামী রবিবার ৫৩ হাজারেরও বেশি পরিবারকে ঘর দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরো এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনা মূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

একসঙ্গে এত মানুষকে বিনা মূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনাকে বিশ্বে নজিরবিহীন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও ভূমিহীন-গৃহহীনদের ডেকে তাদের বাড়ি-ঘর দেওয়ার নজির আর নেই।

মুখ্য সচিব বলেন, অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াটা ‘অন্তর্ভুক্তি উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’। বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি।

সরকার অসহায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আহমদ কায়কাউস বলেন, অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের বিষয়ে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘খুরুশকুল’-এর কথা তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্প খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১৯টি বহুতল ভবনে ৬০০টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে একটি করে ফ্ল্যাট দেন। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ করে আরো তিন হাজার ৮০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান মুখ্য সচিব।

কভিডের টিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘টিকার জন্য আমরা যোগাযোগ করে চলেছি। এরই মধ্যে আমরা কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যাশা করছি দ্রুত আমরা টিকা পাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রতিদিনই অন্ততপক্ষে একেকটা দেশ বা কম্পানির সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশেও উৎপাদন করার চেষ্টা করছি।’

টিকা কেনার জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, ‘আমরা কিন্তু কারো দয়া চাই না। বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু সব সময় বলছেন, আমাদের ফ্রি দরকার নেই। আমরা টাকা দিয়ে কিনব। যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে কেনা হবে এবং আমরা কিন্তু অনেক দূর এগিয়েছি।’

টিকা সংকট প্রসঙ্গে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘‘বর্তমানে ভ্যাকসিন মার্কেটটা কিন্তু ‘সেলারস মার্কেট’, কেউ কিন্তু বিক্রি করছে না। আমরা পৃথিবীর সব জায়গায় চেষ্টা করেছি প্রথম দিন থেকে, তখন আমাদের কাছে যে ‘অপশনটা’ ছিল সেটা আমরা গ্রহণ করেছি। এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ভেতরে আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারবেন কম দামে কিন্তু আমরা পেয়েছি।’’

তিনি বলেন, ‘এখন একটা কথা হচ্ছে যে আমরা সোর্স করিনি কেন? আপনাদের কিভাবে বোঝাব আমরা সোর্সিংয়ের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপ বা চীনসহ সব দেশে প্রতিনিয়ত আমাদের রাষ্ট্রদূতরা যোগাযোগ করে চলেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, ‘‘এখন আমরা ‘সিলেকটিভ’ মানুষ না, আমরা চেষ্টা করেছি যে ‘প্রায়োরিটি; ভিত্তিতে যাঁরা ‘স্টুডেন্ট’ আছেন, মেডিক্যালের তাঁরা কভিড পরিস্থিতিতে কাজ করছেন, সে জন্য আমরা তাঁদের দিয়েছি। যেহেতু আমাদের কাছে টিকা কম আছে। কালকে যদি এক মিলিয়ন পাই তাহলে তো তখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবার দেওয়া হবে।’’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা