kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

৩৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৪৭

কয়েক দিন ধরেই দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের, যা গত ৩৪ দিনের মধ্যে সর্বাধিক। এর আগে গত ৯ মে এর চেয়ে বেশি ৫৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।

সীমান্ত এলাকায় মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার ফলে দৈনিক মোট মৃত্যুর হিসাব বড় হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

সীমান্ত জেলায় মৃত্যু বাড়ার পর ঢাকায়ও মৃত্যু বাড়ল। গতকাল ঢাকায় আবার বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেল।

দৈনিক শনাক্তের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কিছুটা ওঠানামা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৪৩৬ জন। আগের দিন শনিবার এক হাজার ৬৩৭ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ার তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার দুই হাজার ৪৫৪ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২৪২ জন।

এখন পর্যন্ত দেশে রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট আট লাখ ২৬ হাজার ৯২২ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৩ হাজার ১১৮ জন এবং সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৬৬ হাজার ২৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গতকাল দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২.৯৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩.৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২.৬৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৫৯ শতাংশ।

গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৭ জনের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন এবং নারী ১৫ জন। বয়স হিসাবে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের আটজন এবং ষাটোর্ধ্ব ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫ জন, চট্টগ্রামের ৯ জন, রাজশাহীর ছয়জন, খুলনার আটজন, বরিশালের একজন, সিলেট ও ময়মনসিংহের দুজন করে এবং রংপুরের চারজন রয়েছেন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। পরে কিছুটা কমলেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তা বেড়ে গেছে। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণের তিনটি ক্লাস্টার রয়েছে। এগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর নিয়ে একটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ নিয়ে একটি এবং সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা নিয়ে আরেকটি। এসব জেলায় কারো মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেই হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমন্বয় করা হচ্ছে। এসব জেলার হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো হয়েছে, অক্সিজেন সুবিধাও আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সবাইকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গ না থাকলেও আইসোলেশনে থাকতে হবে।

ডা. নাজমুল বলেন, ‘দেশে এখন দিনে ৪০ থেকে ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে আরো বাড়ানো যাবে। কিন্তু মানুষকে পরীক্ষা করাতে আসতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে অধিক সংক্রমিত সীমান্তবর্তী এলাকায় বিনা মূল্যে পরীক্ষা করছি।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর জানায় সরকার। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ জানানো হয় প্রথম মৃত্যুর খবর। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এর পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হয়। চলতি বছরের মার্চের শেষের দিক থেকে দেশে আবার সংক্রমণ বাড়তে থাকে, যদিও ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আবার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। অবশ্য পরে ধাপে ধাপে কিছু বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।