kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

অপরিশোধিত সোনা আমদানি, শোধনাগার স্থাপনের পথ খুলল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপরিশোধিত সোনা আমদানি, শোধনাগার স্থাপনের পথ খুলল

রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে দেশে অপরিশোধিত ও আংশিক পরিশোধিত সোনা আমদানি ও পরিশোধনের সুযোগ রেখে সংশোধিত নীতিমালার খসড়ায় সায় দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আরো তিনটি সংশোধনী এনে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংশোধিত নীতিমালায় সোনা শোধনাগারের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনটি সোনা হিসেবে বিবেচিত হবে, কোথায় পরীক্ষা করা যাবে—এসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় সোনার বার ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি অপরিশোধিত সোনা আকরিক ও আংশিক পরিশোধিত সোনা আমদানি করা যাবে। পরে তা দেশে পরিশোধন করে বিভিন্ন গ্রেডের সোনার বার তৈরি করার সুযোগ হবে।

সোনা পরিশোধনাগার স্থাপন ও পরিচালনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি মান ঠিক করে দেবে। যাঁরা সোনার বার রপ্তানি করতে চান, তাঁদের অবশ্যই সোনা পরিশোধনাগার থাকতে হবে। এ ছাড়া নিজস্ব ব্যবসার জন্য সোনার বার আমদানির ক্ষেত্রে জামানত প্রয়োজন হবে না বলেও সচিব জানান। এ বিষয়ে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে নীতিমালায়। তিনি বলেন, ‘আমরা তো (বিশ্বে) সোনা পরিশোধনাগারের তালিকায় নেই। এ নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করলে এই তালিকায় আসতে পারব। সে ক্ষেত্রে বাইরের অনেক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিও এখানে আসবে।’

শুধু সোনা নয়, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য দামি দ্রব্যও এর সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘কারণ সেগুলোর সঙ্গে অনেক বাই প্রডাক্ট থাকে। এখানে শ্রম সস্তা, তাই বাই প্রডাক্ট এলে অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এসব বাই প্রডাক্টের আন্তর্জাতিক বাজারও রয়েছে।’

দেশের ভেতর সোনার বাণিজ্যিক ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানির লক্ষ্যে সোনা আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা, আমদানি ও পরবর্তী বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, স্বর্ণালংকার রপ্তানিতে নীতি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই খাতের বিকাশের লক্ষ্যে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ২০১৮ সালে দেশে স্বর্ণ নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর অক্টোবরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ার পর ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ কার্যকর করা হয়।

নীতিমালা হওয়ার পর গত বছরের জুন মাসের শেষ দিকে প্রথম সোনা আমদানি শুরু হয়। ওই সময় ১১ কেজি সোনা আমদানির মাধ্যমে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড আমদানি শুরু করে।