kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

প্রতিহিংসার সেই পুরনো কৌশল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিহিংসার সেই পুরনো কৌশল

সদ্যঃসমাপ্ত বিধানসভার ভোট নিয়ে অস্থিরতা না কাটতেই আরেক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। এই উত্তেজনাও বিধানসভার ভোট নিয়েই; সেটা ২০১৬ সালের। ওই নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘুষ নেওয়ার এক মামলায় গতকাল তৃণমূলের তিন শীর্ষ নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও গতকাল রাতে চারজনকেই অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত।

ভারতের রাজনীতিতে এই মামলা নারদকাণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় পাঁচ বছর আগের এই মামলাকে হঠাৎ সামনে আনার ঘটনাকে নানা মহল থেকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনার জন্য দুষছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে। তাঁদের চোখে, এ ঘটনার পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হাতও রয়েছে। আবার এই কেলেঙ্কারিতে নাম থাকার পরও বিজেপির দুই বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়কে কেন গ্রেপ্তার করা হলো না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনই তৃণমূলের শীর্ষ নেতা। তাঁরা হলেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ও কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাবেক মন্ত্রী ও নবনির্বাচিত বিধায়ক সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সাবেক মন্ত্রী ও নবনির্বাচিত বিধায়ক মদন মিত্র। গ্রেপ্তার হওয়া আরেকজন কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি আগে তৃণমূলের রাজনীতি করলেও বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। যদিও এবারের নির্বাচনে একরকম নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি।

গতকাল সকালে এই চার নেতাকে নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। গ্রেপ্তারের পর গতকালই তাঁদের আদালতে তোলা হয়। আর গ্রেপ্তারের ঘটনা জানার পরই সিবিআই কার্যালয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার নেতাকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ছেড়ে না দিলে আমাকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।’

এদিকে নিজাম প্যালেসে (সিবিআই দপ্তর) অবস্থান নেওয়ায় মমতার সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আইন ও সংবিধানের প্রতি ভরসা নেই বলেই মুখ্যমন্ত্রী অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন।’

মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে গেলে রাজ্যপালের অনুমতির নিতে হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মামলা চালানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ৭ মে তাদের অনুমতি দিয়েছেন।

এ অবস্থায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রাজ্যপালের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দলের অনেক নেতাকর্মী গতকাল রাজ্যভবনের সামনে বিক্ষোভও করেছেন। তৃণমূল থেকে নির্বাচিত এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যপাল প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন। তিনি বিজেপির পতাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তিনি কেন দিলেন না?’

২০১৬ সালে বিধানসভার ভোটের আগে চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফাঁস করে নারদনিউজ নামের একটি অনলাইন পোর্টাল। তাতে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা, মন্ত্রী, এমপি ও বিধায়ক অর্থ গ্রহণ করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তাঁদের হাতে কিভাবে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এত দিন ওই মামলা ফাইলবন্দি ছিল। কিন্তু তৃণমূল টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পরই মামলা নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু করল সিবিআই। ইতিহাসবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি বলেন, ‘দেশে স্বৈরাচার চলছে। ভোটে হেরে জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যপালকে এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন কিংবা প্রশাসন—সবই এখন স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এই সময়।



সাতদিনের সেরা