kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

ভারত থেকে ফিরতে নেই কড়াকড়ি

চিন্তিত মন্ত্রিপরিষদ চ্যালেঞ্জে যশোর প্রশাসন

বাহরাম খান   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিন্তিত মন্ত্রিপরিষদ চ্যালেঞ্জে যশোর প্রশাসন

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতে থাকা বাংলাদেশিদের, যাদের দেশে না এলে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে আইনগত জটিলতায় পড়তে হতে পারে, শুধু তাদেরই বাংলাদেশে ঢোকার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। স্বাভাবিক সময়ের মতোই দেশে ফিরছে মানুষ। যশোর জেলা প্রশাসন বিষয়টি সরকারকে জানিয়েও মানুষের ঢল থামাতে পারছে না। এতে চিন্তায় পড়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও। গতকাল শনিবার ভারত থেকে আসা দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। তার পরও সীমান্তে কড়াকড়ির বড় উদ্যোগের কথা জানা যায়নি।

স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মানুষ বাংলাদেশে আসে। গত ২৫ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণার পর দু-এক দিন লোকজন আসা কিছুটা সীমিত থাকলেও এরপর বেড়ে গেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগকে কোয়ারেন্টিনে রাখা গেলেও কিছু জটিল রোগীকে পুরোপুরি প্রশাসনের আয়ত্তে রাখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে আসা জটিল অনেক রোগীকে হাসপাতালে রাখতে হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আসা অ্যাটেনডেন্টদেরও হাসপাতালে রাখতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট হোটেলে বা অন্য স্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করছে যশোর জেলা প্রশাসন। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালে যাদের ভর্তি করতে হচ্ছে, তাদের জন্য আলাদাভাবে পাহারা রাখা কঠিন হচ্ছে।

এসব সমস্যা নিয়ে যশোর জেলা থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় অফিসে জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভারত থেকে মানুষ ফেরত আসার ঢল ফেরানো যাচ্ছে না। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ভারতের দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশন অফিস থেকে অনুমোদন নিয়ে দেশে ফিরবে। প্রথম দিকে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমিত রাখা গেলেও পরে সেটা রাখা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশনের অফিসগুলোতে প্রচুর তদবির হচ্ছে। তদবির আসছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অনেক জায়গায়। আর এসব তদবিরের কারণে সীমান্ত বন্ধের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

চ্যালেঞ্জে যশোর জেলা প্রশাসন : হঠাৎ করে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পর ভারতীয় করোনাভাইরাসের ধরন নিয়ে দেশে সাময়িক স্বস্তি এলেও চ্যালেঞ্জে পড়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। ভারতফেরতদের যশোরে কোয়ারেন্টিনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পাশের সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইল ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিচ্ছে যশোর জেলা প্রশাসন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত মানুষ ঢোকার অনুমোদন পাবে, তা চিন্তা করা যায়নি। যশোর জেলা প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর পরিশ্রম করছে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রাত-দিন কাজ করছি। রোজার দিনে জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে পরিশ্রম করছেন, তা বলার মতো না। তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় সমস্যা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ছাড়া জেলার পুলিশ, সিভিল সার্জন অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাসহ আমরা সবাই সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি টিম হিসেবে কাজ করছি।’

কালের কণ্ঠ’র যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের চমৎকার সমন্বয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে ভারতফেরত প্রায় সবাইকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যাদের ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নেই, তাদের এভাবে এখন দেশে আসতে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।