kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

কাজ না থাকলে অপরাধ বাড়ে আমরা সতর্ক

মুহা. শফিকুল ইসলাম ডিএমপি কমিশনার

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কাজ না থাকলে অপরাধ বাড়ে আমরা সতর্ক

করোনাকালে আর্থিক সংকটের কারণে রাজধানীতে অপরাধ বেড়েছে। আর এটা মাথায় রেখেই সতর্ক আছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম। টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রেজোয়ান বিশ্বাস

 

কালের কণ্ঠ : করোনায় অপরাধ পরিস্থিতি কেমন?

ডিএমপি কমিশনার : হঠাৎ করেই রাজধানীতে অপরাধ বেড়েছে, বিশেষ করে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

কালের কণ্ঠ : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কেন এই অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না?

ডিএমপি কমিশনার : ঈদের আগে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। তবে আমরা বসে নেই। করোনাঝুঁকি মাথায় রেখে মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। করোনার কারণে এমনিতেই মানুষ চরম সংকটের মধ্যে আছে।

 

কালের কণ্ঠ : বেকার বা কর্মহীন হয়ে পড়া লোকজন কি অপরাধে জড়াচ্ছে?

ডিএমপি কমিশনার : করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মানুষ অভাবে আছে। তাদের অনেকেই অপরাধে জড়াতে পারে। রাজধানীতে অনেক লোকের বসবাস। এর মধ্যে কিছু মানুষ সব সময় অন্যের অর্থ বা সম্পদ জোর করে লুট করতে চায়। এরা পেশাদার অপরাধী। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনার কারণে অভাব। এই অভাবের কারণেও কিছু মানুষ অপরাধে জড়াচ্ছে। অভাব থাকলে অপরাধ কিছুটা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

 

কালের কণ্ঠ : ঈদুল ফিতর সামনে রেখে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে? নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

ডিএমপি কমিশনার : বরাবরই যেকোনো উৎসব ঘিরে অপরাধীরা তৎপর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঈদের আগে সব ধরনের অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে এসব অপরাধীকে ধরতে প্রত্যেক থানা পুলিশকে বাড়তি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে সব ধরনের তৎপরতা রয়েছে আমাদের। এর পাশাপাশি পুরনো ছিনতাইকারীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : করোনার ভয় আর দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় বাড়ি গিয়ে উৎসব করার সুযোগ সীমিত। এর পরও ঈদের সময় অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির সদস্যরাও মানুষকে বিপদে ফেলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।

ডিএমপি কমিশনার : হ্যাঁ, এরা সারা বছরই বিভিন্নভাবে অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকে। বিশেষ করে বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে এরা মানুষকে টার্গেট করে। এরা অনেক মানুষকে হত্যাও করে। এ ধরনের অপরাধীদের ধরতেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তবে জনগণকেও এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। এরা যাতে মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিতে না পারে, সেদিকে বাড়তি নজরদারি রয়েছে আমাদের।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা পরিস্থিতিতে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে?

ডিএমপি কমিশনার : সময়টা অনেক কঠিন। করোনা মোকাবেলা করেই পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে। এতে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে পুলিশ বরাবরই মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে চলেছে। অভাবের কারণে কিছু মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তবে সেদিকেও আমাদের বিশেষ খেয়াল রয়েছে। তবে অবশ্যই আমি বলব, এই কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে হবে আমাদের। অপরাধে না জড়িয়ে বৈধ উপায়ে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : ঈদের আগে ঢাকার বাইরে থেকে অনেক লোকজন আসে। তাদের অনেকে অপরাধেও জড়ায়। এ বিষয়ে কতটা নজর রাখছে পুলিশ?

ডিএমপি কমিশনার : ঈদের আগে এ ধরনের অপরাধীরাও সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে ঈদের আগে মানুষ বাসায় তালা মেরে গ্রামের বাড়ি যায়। এই সুযোগে ডাকাতি, চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। তবে ডাকাত ও চোরদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : উৎসবকেন্দ্রিক সক্রিয় মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

ডিএমপি কমিশনার : মাদক নিয়ন্ত্রণে বরাবরই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে আমাদের। মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ মানুষের পাশে থেকে কী ধরনের সেবা দিচ্ছে?

ডিএমপি কমিশনার : দেশে করোনার শুরু থেকেই পুলিশ দিন-রাত মানুষের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। মানুষের পাশে থেকে সেবা দিতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর পরও পুলিশ থেমে নেই। মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া, মানুষ যাতে মাস্ক ব্যবহার করে, এ বিষয়ে সতর্ক করার মতো কাজগুলো করছে। লকডাউনের সময় সড়কে থেকে পুলিশ মানুষকে সব ধরনের সেবা দিচ্ছে। এই চরম বিপদের সময় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ মানুষের পাশে আছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মহানগরীর প্রতিটি সড়ক ও গলিতে টহল বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এ ছাড়া ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।