kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

চিকিৎসার জন্য খালেদার বিদেশযাত্রা

প্রস্তুতি চলছে সরকারের সম্মতির অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রস্তুতি চলছে সরকারের সম্মতির অপেক্ষা

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হবে যেকোনো দিন। চিকিৎসার জন্য পছন্দের দেশের ভিসাসহ অন্যান্য বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, পাসপোর্ট নবায়নসহ সব প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তাঁর পরিবার ও দল। এখন সরকারের অনুমতি পেলেই ভিসার জন্য আবেদন করা হবে। যদিও চিকিৎসার জন্য কোন দেশে খালেদা জিয়াকে নেওয়া হচ্ছে, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি তাঁর পরিবার বা দল।

দলীয় ও পরিবারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার রয়েছে।

খালেদা জিয়া ভিসার জন্য আবেদন করলে যুক্তরাজ্য সরকার সেটি বিবেচনা করে দেখবে বলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের একটি সূত্র জানায়, যদি আগামী রবিবার প্রথম কর্মদিবসে অনুমতি মেলে, তাহলে আগে থেকে যোগাযোগ করে রাখা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আনবে তারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কে কে যাবেন, আজ-কালের মধ্যেই সেটা ঠিক করা হবে।

সরকারের সম্মতির অপেক্ষা : গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদনের বিষয়টি সরকার মানবিকভাবেই বিবেচনা করছে। খুব শিগগির সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আবেদনের ফাইল পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

এর আগে গত বুধবার রাতে খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে লিখিত আবেদন করেন তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদনটি পেয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার প্রয়োজন হলে বিষয়টি আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখব।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে গত বছর ২৫ মার্চ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর তাঁর মুক্তির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। যে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার তাতে শর্ত ছিল, তিনি বিদেশে যেতে বা বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। এখন তাঁকে বিদেশ যেতে হলে সরকারের নির্বাহী আদেশের শর্ত শিথিল করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘সরকার সেই শর্তটি শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।’

সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা : খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে গত রাত পৌনে ৮টায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যে খুব ভালো সেটি বলা যায় না। আবার খুবই খারাপ সেটিও বলছি না। আজ (বৃহস্পতিবার) তাঁর পাঁচ লিটার অক্সিজেন লেগেছে। তাঁর ফুসফুস থেকে পানি বের করা হয়েছে।’

একই হাসপাতালের আরেকজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, বিএনপিপ্রধানের একটানা অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে না। দিনে অনেকটা সময় অক্সিজেন ছাড়াও থাকতে পারছেন তিনি। খাওয়াদাওয়াও স্বাভাবিক রয়েছে। দিনে কয়েকবার তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ অন্যান্য সূচক পরীক্ষা করা হয়।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এর মাত্রা ওঠানামা করছে। এ ছাড়া রক্তে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রাও কিছুটা কমেছে। গত বুধবার রাতেও অক্সিজেন প্রায় ৯০-এর নিচে ছিল বলে জানান এক চিকিৎসক।

সর্বশেষ করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে বলে গতকাল জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিএনপিপ্রধান করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। ১৪ দিন পর খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফল পজিটিভ আসে। এরপর কিছু পরীক্ষার জন্য তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় পরীক্ষা করে বাসায় ফেরার পর দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তাঁকে ফের হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়।

পাসপোর্টের আবেদন : খালেদা জিয়ার এমআরপি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তাঁর ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সেটি দেওয়া হবে। ২০১৯ সালে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বিএনপি নেত্রীর। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাঁর পক্ষে আবেদন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পাবেন।

ফখরুলের আহ্বান : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে তাঁর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আশা করি, সরকার মানবিক কারণে তাঁর বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।

খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় আজ শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনাসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল। গতকাল দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচি দেন।

 



সাতদিনের সেরা