kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

করোনাকালীন জরিপে সিপিডির তথ্য

খাওয়া কমিয়েছে ৫২ শতাংশ মানুষ

► ৬২ শতাংশ মানুষ হারিয়েছে কাজ
► ৮৫ শতাংশ এক মাসের বেশি সময় কর্মহীন ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাওয়া কমিয়েছে ৫২ শতাংশ মানুষ

মহামারি করোনার কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষের আয় কমে গেছে। এর ফলে ৫২ শতাংশ মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া করোনার প্রকোপে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই কাজ হারিয়েছে গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ‘কভিডকালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি : কিভাবে মানুষগুলো টিকে আছে?’ শীর্ষক এক সংলাপে এই জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির জরিপে উঠে এসেছে, কাজ হারানো বেশির ভাগ মানুষই নতুন করে কর্মসংস্থানে ফিরে এসেছে। এর পরও কমে গেছে আয়। সেই সঙ্গে কমেছে কর্মঘণ্টা। আবার অনেকের বেড়েছে ঋণ। কেউ কেউ বিক্রি করে দিয়েছে সম্পদও।

সিপিডির পক্ষে জরিপ প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান। তিনি জানান, শ্রমশক্তির যে কাঠামো আছে, সেটা ব্যবহার করে দুই হাজার ৬০০ খানার ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। এ বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই জরিপ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চের শেষে বা এপ্রিলের শুরু থেকে করোনার যে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে, সেটির চিত্র জরিপে তুলে আনা যায়নি।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে তৌফিক ইসলাম বলেন, ‘৬২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা কখনো না কখনো কর্ম হারিয়েছেন। তবে সবাই একই সময়ে হারাননি। বেশির ভাগ মানুষ গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে কাজ হারিয়েছেন, যখন সাধারণ ছুটি বা লকডাউন চলছিল।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৮৫ শতাংশ এক মাসের বেশি সময় কর্মহীন ছিলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যখন জরিপ করি তখন প্রায় সবাই চাকরি ফেরত পেয়েছেন। সেই হিসাবে মোট কর্মসংস্থানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।’

নতুন কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৃষি খাতে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। সেই তুলনায় আমাদের সেবা খাত, যেটা কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় জায়গা, সেখানে আমরা দেখছি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রায় দেড় শতাংশের মতো কমে গেছে। তবে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।’

জরিপে কর্মঘণ্টার চিত্র তুলে ধরে রিসার্চ ফেলো তৌফিক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, দৈনিক প্রায় ৪ শতাংশের মতো কর্মঘণ্টা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান যে কৃষি খাত দিয়েছে, সেখানে কর্মঘণ্টা কমে গেছে।’

কাজ হারানো মানুষ নতুন কর্মসংস্থানে ফিরলেও আয় কমে গেছে বলে সিপিডির জরিপে উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে তৌফিক বলেন, ‘কর্মসংস্থানে ফিরলেও আমরা জরিপে দেখেছি, প্রায় ৪৫ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, আগে তাদের যে আয় ছিল, এখন তার থেকে কম আয় হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে কৃষি খাতে—প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। একই সঙ্গে উত্পাদন খাতেও সাড়ে ১২ শতাংশের ওপরে আয় কমেছে।’

জরিপে ৪২-৪৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁদের কর্মপরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ। প্রায় ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা আগের মতো যথেষ্ট আয় করছেন না। অর্থাৎ তাঁরা যে ধরনের আয়ের প্রত্যাশা করেন, এখন এর চেয়েও কম আয় করছেন। সুতরাং তাঁরা তাঁদের আয়ের ক্ষেত্রে সন্তুষ্ট নন।

তৌফিক জানান, জরিপে উঠে এসেছে, নতুন যে কর্মসংস্থান হয়েছে এর মধ্যে বেশির ভাগ যুবক, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই বয়সী। তবে ৩০-৬৪ বছর বয়সীদেরও বড় অংশ নতুন কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, এ ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৩২ শতাংশের ওপরে। এর বড় অংশ নারী। এই নারীদের অনেকে কৃষি খাতেও যুক্ত হয়েছেন।

তিনি আরো জানান, নতুন কর্মসংস্থান বাড়লেও আয় বাড়েনি। যে কারণে ৭৮ শতাংশ খরচ কমিয়ে এনেছে। ৫২ শতাংশ খাবার কমিয়ে দিয়েছে। প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, তারা সঞ্চয় কমিয়ে দিয়েছে। প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, তাদের ঋণ বেড়েছে। প্রায় ৫ শতাংশ জানিয়েছে, সম্পদ বিক্রি করে দিতে হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনায় নিম্নবিত্ত শ্রমিকের ওপর বেশি প্রভাব পড়েছে। তবে কৃষিক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়লেও এতে শ্রমঘণ্টা ও আয় কমেছে। এপ্রিল-মে মাসে যে ধাক্কা এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছিল।

সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহ আজীম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা