kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

আইসিইউসহ সব সুবিধাই আছে অথচ খরচ কম

ডিএনসিসির কভিড হাসপাতাল নিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইসিইউসহ সব সুবিধাই আছে অথচ খরচ কম

এক হাজার ১০০ শয্যা নিয়ে মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল যাত্রা শুরু করেছে। আগে এটি ডিএনসিসি মার্কেট নামেই পরিচিত ছিল। মার্কেটটিকে হাসপাতাল করার পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। কিভাবে এই হাসপাতাল তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হলেন, কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন সেই সব কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক শম্পা বিশ্বাস

 

কালের কণ্ঠ : কভিড হাসপাতাল করার উদ্যোগ কিভাবে নিলেন?

আতিকুল ইসলাম : আমি দেখেছি ডিএনসিসির বহু দোকানপাট বা শপিং মল আছে, সেখানে সব জিনিস পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা যে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে বাঁচব, যার মাধ্যমে আমরা সুস্থ হব, সেই হাসপাতালই আমাদের নেই। এই তাগিদ থেকেই আমি এই হাসপাতালটি করার উদ্যোগ নিই। কারওয়ান বাজার থেকে ৩৬০টি দোকান স্থানান্তরিত হয়ে এই মার্কেটে আসার কথা ছিল। যার মধ্যে ২৫৮টি দোকান আমরা এখানে বরাদ্দও দিয়েছিলাম। কিন্তু মহামারির কারণে সেই বরাদ্দ বাতিল করে এখানে করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিই। ফলে এই মার্কেটে যাদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা ১১ জন আমার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। তবে আমি তাঁদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে বসে হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি। তাঁদের মধ্যে তিনজন মামলা তুলেও নিয়েছেন।

 

কালের কণ্ঠ : ডিএনসিসি হাসপাতাল করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সফলতা কোনটি বলে মনে করেন?

আতিকুল ইসলাম : গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় আমরা ডিএনসিসির এই মার্কেটটিকে কভিড রোগীদের আইসোলেশন সেন্টার বানাই। প্রথম ধাপ পার করার পর এই মার্কেটটিকে আমরা টেস্টিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করি। তবে অন্য অনেক টেস্টিং সেন্টারে ভুয়া সনদসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও আমাদের এই টেস্টিং সেন্টারটির রিপোর্ট নিয়ে কোনো ধরনের বদনাম হয়নি। এটা আমাদের বড় একটি অর্জন ও সাফল্য। এখন কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আমরা আবারও এই মার্কেটিকে কভিড হাসপাতাল করতে কাজ শুরু করি এবং মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সেই অসাধ্য সাধন করেছে ডিএনসিসি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

 

কালের কণ্ঠ : এই হাসপাতাল করতে অর্থায়ন কারা করেছে?

আতিকুল ইসলাম : এক লাখ ৮৬ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপরে দাঁড়ানো এই হাসপাতাল করতে মোট ১৭১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি ব্যয় করেছে ৭০ কোটি টাকা, বাকিটা সরকার ব্যয় করেছে। এর বাইরে আর কোনো প্রতিষ্ঠান এতে অর্থায়ন করেনি।

 

কালের কণ্ঠ : কভিড কাটিয়ে ওঠার পর হাসপাতাল সরিয়ে কি এখানে পুনরায় মার্কেট করা হবে?

আতিকুল ইসলাম : আসলে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার সময় দক্ষিণে দুটি হাসপাতাল পরলেও উত্তরে কোনো হাসপাতাল ছিল না। ফলে এখন এটাই ডিএনসিসি এলাকার প্রথম হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি হাসপাতালই থাকবে। এখানে আর দোকান বরাদ্দ দেব না। এখানে ২১ বিঘা জমি আছে। সেখানে আরো ভবন নির্মাণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল করতে চাই। তবে আমাদের কোনো নার্সিং ইনস্টিটিউট নেই। অথচ সেবার জন্য নার্স কিন্তু খুবই জরুরি। তাই আমার স্বপ্ন, এখানে এই হাসপাতালের পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট করার।

 

কালের কণ্ঠ : এখানে সেবা নিতে নগরবাসীর ব্যয় কেমন হবে?

আতিকুল ইসলাম : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে মানুষের যে খরচ হয় এখানেও তাই হবে। অর্থাৎ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে যে খরচে মানুষ সেবা পায়, এখানেও সেভাবেই পাবে। অনেক জায়গায় হাসপাতাল আছে কিন্তু অক্সিজেন নেই, আইসিইউ নেই, আবার খরচও অনেক বেশি। অথচ এখানে হাসপাতাল, অক্সিজেন, আইসিইউ সবই আছে, কিন্তু খরচ কম।

 

কালের কণ্ঠ : এখানে বরাদ্দ দেওয়া দোকানগুলোর জন্য কী ব্যবস্থা করবেন?

আতিকুল ইসলাম : কারওয়ান বাজারের ৮৬০টি দোকানকে আমি গাবতলীতে নিয়ে যাব। এখানে যাদের আসার কথা ছিল সেই ৩৬০টি দোকানকেও আমি সেখানে নিয়ে যাব। দোকানিদের বোঝাতে হয়েছে যে তাদের আমি মিরপুরে দোকান বরাদ্দ দেব, তারা যেন এই জায়গাটা ছেড়ে দেয়। তবে এটা কিন্তু সহজ কাজ নয়। আসলে তারাও তো জমিজমা বিক্রি করে একটা দোকানের জন্য এখানে বরাদ্দ পেয়েছে। ফলে তাদের বোঝাতে সময় লেগেছে।

 

কালের কণ্ঠ : মার্কেটকে হাসপাতাল করতে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী ছিল?

আতিকুল ইসলাম : এখানে দোকানের ধরন অনুসারে খোপ খোপ কক্ষ ছিল। আসলে তখন তো মার্কেটের কনসেপ্ট ছিল। সেটাকে এখন হাসপাতালের কনসেপ্টে নিয়ে আসতে হচ্ছে। আমরা সে জন্য এটাকে নতুন ধরনের আর্কিটেকচারাল ভিউ দিয়ে হাসপাতাল আর্কিটেক্টদের দিয়ে ডিজাইন চেঞ্জ করার কাজ করছি।

 



সাতদিনের সেরা