kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

দোকান খোলা আনাগোনা নেই ক্রেতার

আজ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে

জহিরুল ইসলাম ও সজীব আহমেদ   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দোকান খোলা আনাগোনা নেই ক্রেতার

১১ দিন বন্ধ থাকার পর দোকান-মার্কেট খুলেছে গতকাল। বাজারে ক্রেতাসমাগম কম হলেও কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার দৃশ্যেরও দেখা মিলেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউনের মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে দোকান ও শপিং মল। ১১ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা হলেও প্রথম দিন রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। বেশির ভাগ দোকান ও শপিং মলে ক্রেতা না থাকায় দোকানিদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁদের আশা, ঈদের আগমুহূর্তে জমে উঠবে কেনাকাটা।

দোকান ও শপিং মল খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও বাইরে বের হতে আগের মতোই ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকেই মুভমেন্ট পাসের জন্য বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা যায়নি। তবে রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ অন্য দিনের চেয়ে ছিল বেশি।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে রাজধানীতে আজ সোমবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখা যাবে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম।

সরেজমিন রাজধানীর গুলশাল-১ ডিএনসিসি মার্কেট, বাড্ডার সুবাস্তু শপিং মল, গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন দোকান ও শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুললেও ছিল না ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা। বেশির ভাগ মার্কেটে বিক্রেতারা দোকান পরিষ্কার আর পণ্য গোছগাছ করে সময় কাটাচ্ছেন। গণপরিবহন বন্ধের কারণেই ক্রেতাদের উপস্থিতি কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ পোশাকের দোকানগুলোতেও কিছুটা ভিড় লক্ষ করা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মার্কেটের নিয়ম শিথিল হলেও গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তাঘাটে বের হচ্ছে না। ফলে দোকানপাট খুললেও ক্রেতা সেভাবে নেই। ঈদের আগে ভালো বেচাকেনার জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে।

সকাল ১১টার দিকে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের বিক্রেতা ও আগত ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মার্কেট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে।

ভাটারা নূরেরচালা এলাকা থেকে মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন শিক্ষক সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, গণপরিহন না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে আসতে হয়েছে। তাই ভাড়া বেশি লেগেছে। কিন্তু ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি। মহিউদ্দিন খান নামের এক ক্রেতা মুভমেন্ট পাস নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিকেতন থেকে এই মার্কেটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই ইন্টারনেট থেকে মুভমেন্ট পাস নিয়েছি। তবে রাস্তায় পুলিশ চেক করেনি। মূলত একটি ডিপ ফ্রিজ কেনার জন্যই আজ মার্কেটে এসেছিলাম।’

ডিএনসিসি মার্কেটের এসএ ট্রেডার্সের মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান খুলেছি। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং মুভমেন্ট পাসের ভয়ে অনেক ক্রেতাই মার্কেটে আসছে না। আমার বাসা উত্তরায়, গণপরিবহন না থাকায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হয়েছে।’

গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘গণপরিবহন বন্ধ রেখে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্তটি ভুল। এদিকে বলা হয়েছে, ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মুভমেন্ট পাস নিয়ে মার্কেটে আসতে হবে। অনেকে জানেই না কিভাবে মুভমেন্ট পাস নিতে হয়। এটিও একরকম হয়রানি। তাই এই নির্দেশনাটি বাতিল করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মেনেই মার্কেট খুলেছি। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্ক করার জন্য দুই ঘণ্টা পর পর মাইকিং করা হচ্ছে।’

এদিকে দুপুরে বাড্ডার সুবাস্তু নজর ভ্যালী শপিং মলে গিয়ে দেখা যায়, দোকান খুলে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রেতারা। কয়েকটি দোকানে হাতে গোনা ক্রেতা থাকলেও বেশির ভাগ দোকান ক্রেতাশূন্য।

এই মার্কেটের বিক্রেতারা বলছেন, যেহেতু মার্কেট খোলা, তাই গণপরিবহন চালু রাখা দরকার ছিল। আবার মার্কেটে এলে মুভমেন্ট পাস লাগবে—এই ঝামেলায় অনেকে আসছে না। আমরা দোকান খুলেছি ক্রেতাদের আশায়; কিন্তু ক্রেতারা মার্কেটে আসতে পারছে না।

নিউ মার্কেট ১ নম্বর গেটে দুপুর আড়াইটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর যাত্রী পরিবহনের মোটরসাইকেলচালকদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রী কম থাকলেও যাদেরই পেয়েছেন, তাদের পকেট কেটেছেন চালকরা। ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই মসলিন জামদানি হাউস। দোকানের মালিকসহ পাঁচজন কর্মচারী অলস বসে আছেন। তাঁরা জানান, সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা।

গাউছিয়ার দোকানিদের একই অবস্থায় দেখা গেলেও নিউ মার্কেটের চেয়ে ক্রেতাসমাগম সেখানে কিছুটা বেশি ছিল। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বিভিন্ন মার্কেট খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। একই রকম অবস্থা হাতিরপুল এলাকার। মোতালিব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজার সামনের রাস্তায় প্রাইভেট কার আর রিকশাজট থাকলেও মার্কেটের ভেতরে তেমন ক্রেতা ছিল না।

 



সাতদিনের সেরা