kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিতে আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিতে আলোচনায়

একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মোহাম্মদ মামুনুল হক। পারিবারিকভাবে রাজনীতি এবং কওমি শিক্ষায় সংশ্লিষ্টতার সুযোগে গড়ে ওঠা পরিচিতিকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন তিনি।

পুলিশের গোয়েন্দা ও দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজতে  ইসলামের মূলধারার নেতাদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন মামুনুল। গোপনে আঁতাত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে।  জানা গেছে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে মামুনুল। গত বছর ১০ অক্টোবর বড় ভাই মাহফুজুল হক দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তিনি দলটির মহাসচিব হন। ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২৬ ডিসেম্বর এক সভায় তাঁকে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিসহ হেফাজতের কর্মকাণ্ডে খেলাফত মজলিসের সে সময়ের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল ছিলেন বেশ সক্রিয়। ঢাকার মামলায় তিনি খুলনায় গ্রেপ্তারও হন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামুনুলকে ‘আপত্তিকর বক্তা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। ফেসবুক ও ইউটিউবে ইসলামী বক্তব্য দিয়ে নিজের পরিচয় তুলে ধরে একটি বড় অনুসারী দল গড়ে তুলেছেন মামুনুল। অনুসারীদের বেশির ভাগই তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানে না। গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসেন মামুনুল। ডিসেম্বরে কুষ্টিয়া শহরে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালানো হয়। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুপল্লীতে হামলা হয়। গত ২৫ মার্চ থেকে নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতায় হেফাজতের কর্মসূচিতে নাশকতায় সক্রিয় নেতৃত্ব দেন তিনি। তিনি ফেসবুক লাইভে ঘোষণা করেন, মোদিকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপর ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রয়েল রিসোর্টে নারী সঙ্গীসহ স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়েন। এরপর হেফাজতের নেতাকর্মীদের হামলা-নাশকতা ও মামুনুলের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই নারীকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। এরপর তাঁর আরেক স্ত্রীর হদিস মেলে, যখন এক যুবক তাঁর বোনকে মামুনুল বিয়ে করেছেন এবং তিনি নিখোঁজ আছেন দাবি করে জিডি করেন।

এত বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া মামুনুল ১৯৭৩ সালের নভেম্বরে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ এবং ছেলেদের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ। বাবা আজিজুল হকের কাছে লেখাপড়া শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে ১২ বছর বয়সে তিনি লালবাগ চাঁদতারা জামে মসজিদ মাদরাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হন। ১৯৮৬ সালে ভর্তি হন ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায়। ১৯৯৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর স্নাতক ও দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পাশাপাশি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। পাঁচ বছর সিরাজগঞ্জ জামিয়া নিজামিয়া বেথুয়া ও দুই বছর মিরপুর জামিউল উলুম মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। ২০০০ সাল থেকে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় ‘শায়খুল হাদিস’ হিসেবে কর্মরত আছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন তিনি।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামুনুল হক সুকৌশলে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের তাঁর দলে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের একটি সেতুবন্ধ তৈরির চেষ্টা চালান। বর্তমান সময়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন তিনি। মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী একসময় শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা এখনো জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।