kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বিশেষজ্ঞ মত

ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেল জরুরি

ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেল জরুরি

দেশে হাসপাতালে আইসিইউসহ আরো কিছু সেবার ক্ষেত্রে যে সমস্যা চলছে তা অনেকটাই সমাধান করা যায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে। অনেক দেশে এখন আইসিইউ সংকট চলছে। তার পরও সেসব দেশ সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। ফলে বিশৃঙ্খলা, মানুষের হয়রানি, হাহাকার, আতঙ্ক অনেকটাই কম। যেমন—আমাদের এখানে সব মানুষের মধ্যেই একটি বড় শঙ্কার বিষয় হচ্ছে করোনা হলেই তাদের নজর চলে যায় আইসিইউর দিকে। উদ্বেগ বাড়তে থাকে আইসিইউ পাবে কি না। কিন্তু এটা করা চলবে না। কার আইসিইউ লাগবে না লাগবে, সেটা ঠিক করে দেবে চিকিৎসক। বাসায় যেভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে তাতে বিপদ আরো বাড়ছে। একটি সিলিন্ডারে মাত্র ৬ থেকে ১০ ঘণ্টার অক্সিজেন থাকছে। যাদের অক্সিজেন সাপোর্ট লাগে, তাদের যদি ওই সময়ের চেয়ে আরো বেশি এবং উচ্চমাত্রা দরকার হয়, তখন স্বজনরা কী করে বা করবে? তখন তো একদিকে স্বজনরা ছুটতে থাকে হাসপাতালে আর রোগীর অবস্থা ততক্ষণে আরো খারাপ হতে থাকে প্রতিমুহূর্তে, কিন্তু অক্সিজেনও পায় না। ফলে এই নষ্ট হওয়া সময়টুকু রোগীর জন্য অনেক মূল্যবান। যে সময় পার করে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয় বা বেড পাওয়া যায়, তখন রোগীকে অনেক বেশি মাসুল দিতে হয়। এ জন্য বলব, সাধারণ মানুষের উচিত পজিটিভ হলেই বা উপসর্গ দেখা দিলে নিজেরা বাসায় অক্সিজেন না নিয়ে বরং হাসপাতালে নেওয়া বা কমপক্ষে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে এ জন্য রাষ্ট্রের  উদ্যোগে এখন একটি সমন্বিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেল গঠন করা জরুরি। অর্থাৎ কারো যদি হাসপাতালে যাওয়ার দরকার হয়, তবে তারা এমন একটি নম্বরে কল করবে যেখান থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে ওই রোগী কোন হাসপাতালে যাবে। রোগীর স্বজনরা সময় নষ্ট না করে রোগীকে নিয়ে ঠিক সেই হাসপাতালেই ছুটবে, আর অন্যদিক থেকে ওই ওয়ানস্টপ সেল থেকেও ওই হাসপাতালে রোগীর জন্য বুকিং দিয়ে বা তথ্য জানিয়ে রাখবে।

সেই সঙ্গে ওই ওয়ানস্টপ সেল থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত তথ্য জানাবে। সব হাসপাতাল একই কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে; সরকারি-বেসরকারি কোনো পার্থক্য থাকবে না। রোগীর বাসার এলাকার হাসপাতালকে রোগীর জন্য প্রাধান্য দেওয়া হবে, সেটা সরকারি বা বেসরকারি যেটাই হোক।

অন্যদিকে আমাদের আইসিইউ চালানোর মতো যে জনবল সংকটের কথা বলা হচ্ছে, সেটাও পুরোপুরি ঠিক নয়। সরকারি চাকরি বাইরে প্রশিক্ষিত অনেক জনবল রয়েছে প্রাইভেট সেক্টরে। সরকার চাইলে তাদের কাজে লাগাতে পারে। এ ছাড়া নরমাল বা যেসব অপারেশন জরুরি নয় সেগুলো এখন বন্ধ রেখে ওই জনবলও এসব কাজে লাগানো যায়।

বিশেষজ্ঞ : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়